হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নাস্তার বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ক্লাবে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিয়োজিত ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বারদের সম্মানীর টাকাও দেওয়া হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। সরেজমিনে কয়েকটি কিশোর-কিশোরী ক্লাবে গিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে হবিগঞ্জের মাধবপুরের ১১টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের আবৃত্তি ও সংগীত শিক্ষা, কারাতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্লাবের সদস্য ৩০ জন কিশোর-কিশোরী। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ৫ বছরের এ প্রকল্প শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
প্রতিটি কেন্দ্রে নাস্তা সরবরাহ করেন নিয়োগপ্রাপ্ত জেন্ডার প্রমোটররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেন্ডার প্রমোটর জানান, ৩০ জনের নাস্তার জন্য প্রতিদিন জনপ্রতি ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অফিস থেকে ২০ টাকা করে দেওয়া হয়। তাই কমমূল্যের খাবার সরবরাহ করেছেন তারা। এছাড়া ক্লাবের সদস্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও হাজিরা খাতায় সবার উপস্থিতি দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
প্রতিটি ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্য। তাদের সম্মানী হিসেবে মাসে ২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু কোনো কো-অর্ডিনেটরকেই পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। কেউ আবার কোনো টাকাই পায়নি।
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ক্লাবের কার্যক্রম দেখতে যাই। সবসময় যেতে পারি না। তবে সম্মানী বাবদ আজ পর্যন্ত এক টাকাও দেওয়া হয়নি।’
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ইটাখোলা মাদ্রাসা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর শ্যামলী রানী জানান, গত ১ বছরে মাত্র ২ হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছেন।
চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর রত্না আক্তার বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৬ হাজার টাকা পেয়েছি। যোগাযোগ করা হলে অফিস থেকে বলে টাকা এলে পাবেন।’
প্রতিটি ক্লাবে তবলা, হারমোনিয়াম ও ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন বই থাকার জন্য বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে কোনো ক্লাবেই এসব পাওয়া যায়নি।
নাস্তার জন্য ২০ টাকা করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম বলেন, ‘নাস্তার খরচ থেকে ১০ টাকা না রাখলে ভ্যাট আর হিসাবরক্ষণ অফিসের খরচ কোথা থেকে দেবু? অন্যান্য আরও খরচ আছে। সেই টাকা কি আমার পকেট থেকে দেব? এছাড়া কো-অর্ডিনেটরদের ভাতা করোনাকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। একবার পেয়েছি, বিতরণও করেছি।’
তবে টাকা রাখার কথা অস্বীকার করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের অফিসে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নাস্তার বরাদ্দ থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগ মিথ্যা।’
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের হবিগঞ্জের উপপরিচালক রোমানা আক্তার বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু হারমোনিয়াম নষ্ট হয়েছে। রিপেয়ারিংয়ের জন্য বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে এগুলো মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা হবে।’
মাধবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহ্সান বলেন, ‘নিয়ম মোতাবেক ক্লাব পরিচালনা ও নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’