গতকাল শুক্রবার নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে জাজারকট এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও ভবন। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ জনে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখনও চলছে জীবিতদের সন্ধান।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প ছিলো এটি।
জাজারকোট জেলা কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র শর্মা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "আহতের সংখ্যা কয়েকশ হতে পারে এবং মৃতের সংখ্যাও বাড়তে পারে।"
ভূমিকম্পে জাজারকোটে তিনটি শহর এবং তিনটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব শহর ও গ্রামে ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের বাস জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ভূমিকম্পে ওই এলাকার ঘরবাড়ি ও ভবনগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ভারতেও এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। নয়া দিল্লির অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের স্থানীয় টিভি চ্যানেলে দেখা গেছে যে, উদ্ধারকারীরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করছে। এ ছাড়া আহতদের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ তদারকি করার জন্য ১৬ সদস্যের সেনা মেডিকেল টিম নিয়ে শনিবার ভোরেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়।
এ সময় রাজনৈতিক দল, সমাজকর্মী এবং জনসাধারণকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, পানি, কাপড় এবং তাঁবুর ব্যবস্থা করার জন্য তহবিল দানের আবেদন জানায়।
নেপালের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র বলেছে, ভূমিকম্পটি ৬.৪ মাত্রার ছিল। তবে জার্মান গবেষণা সংস্থা সায়েন্সেস (জিএফজে) পরে বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭। আর যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্পটি ৫.৬ মাত্রার ছিল।