হাজারও ফিলিস্তিনি শ্রমিককে গাজায় ফেরত পাঠাল ইসরায়েল

ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বৈধভাবে কর্মরত কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের গাজায় ফেরত পাঠাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস শাসিত গাজা উপত্যকা থেকে আর কোনো ফিলিস্তিনি শ্রমিক নেবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

গতকাল শুক্রবার থেকে এসব শ্রমিকদের গাজায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব শ্রমিকদের অধিকাংশই ফেরত আসছে কেরেম শালম ক্রসিং দিয়ে। মিশর ও গাজার মধ্যে অবস্থিত রাফাহ ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকে অবস্থিত কেরেম শালম ক্রসিং। গত ৭ অক্টোবর গাজার সশস্ত্র বাহিনী হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর থেকে কেরেম শালম ক্রসিংয়েও গোলা বর্ষণ করে যাচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্ক।

গাজায় একজন শ্রমিকের আয়ের তুলনায় ১০গুণ বেশি আয় ইসরায়েলে কর্মরত শ্রমিকরা পেয়ে থাকে। এছাড়া কমে শ্রমিক পাওয়ায় যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ১৮ হাজারের বেশি ওয়ার্ক পারমিট জারি করেছিল। যারা ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে কৃষি ও নির্মাণ খাতের মত শ্রম নির্ভর ক্ষেত্রে কাজ করতো।

তবে এ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে দেশটি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করছে ইসরায়েল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকা থেকে আর কোনো ফিলিস্তিনি শ্রমিক নেয়া হবে না।

ইতোমধ্যে গাজার যেসব নাগরিক ইসরায়েল ত্যাগ করেছে, তাদেরকে আর প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। আর যারা এখনো ইসরায়েলে অবস্থান করছে, তাদেরকে গাজায় ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।

তবে ইসরায়েলে গাজার কতজন ফিলিস্তিনি অবস্থান করছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে একজন জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল থেকে গাজার ৪,৯৫০ জন বাসিন্দা প্রাণ ভয়ে পশ্চিম তীরে পালিয়ে গেছেন। আরো প্রায় পাঁচ হাজার জনকে ইসরায়েল বন্দি করে রেখেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।