রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ৮ কেজি গান পাউডার ও ২১টি হাত-বোমাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তারা তিনজনই বিএনপির নেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ। আর ৮ কেজি গান পাউডার দিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বোমা তৈরি করা যেত বলে ধারণা পুলিশের।
ডিবি’র প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে তার অফিসে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তাররা হলেন- যুবদলের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাইদুল হাসান মিন্টু, ২৯ নং ওয়ার্ড চকবাজার যুবদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাশার ও চকবাজার থানা বিএনপির কৃষি দপ্তর সম্পাদক মাসুদ।
তিনি আরও বলেন, হরতাল ও অবরোধে মিন্টু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশের এলাকায় ককটেল নিক্ষেপের দায়িত্বে ছিল। বোমা বিস্ফোরণের সময় তিনি হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে আমরা বাসায় ফেরার পথে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। বোমা কোথা থেকে সে পেয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিন্টু তাদের জানান যে, তার দুই সহযোগীরা বোমা বানান। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজারে একটি বাসায় অভিযান চালান। সেখান থেকে বাশার ও মাসুদকে গ্রেপ্তার করেন। ওই সময় ওই বাসা থেকে ৮কেজি গান পাউডার, ২১ টি হাত বোমা, অ্যাকুরিয়ামের পাথর, কাচের বোতল ও এক কেজির উপর তারকাটা।
গোয়েন্দা তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তাররা শুধু এখন না, তারা ১৯৯৯ সাল থেকে বোমা বানায়। আর তাই তাদের ২০১৩ ও ২০১৪ সালে অনেক চাহিদা ছিল। তখন তাদের যে বেশি বোমা ফাটাতে পারবে তাদের দলে ভালো ভালো পদ দিবে। তখন তারা অনেক বোমা ফাটিয়েছে এবং বর্তমানে থাকা পদগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের আরেক নেতা হলো যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, যে এর আগে বাংলামোটরে গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালের পর রাজনৈতিক উত্তাপ কমে যাওয়ায় গ্রেপ্তারকৃতদের চাহিদা কমে যায়। এরপর এ বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে তারা আবার বোমা বানানো শুরু করেছে। ২৭ অক্টোবর রাতে পুলিশের উপর অনেকগুলো বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তখন তারা বেশ কিছু লোককে গ্রেপ্তার করেছে। তারপর ২৮ অক্টোবর সমাবেশ স্থলে অনেক বোম বিস্ফোরণ হয়েছে। যেটার দায়িত্বে ছিল মিন্টুসহ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম। গ্রেপ্তাররা ৫ ও ৬ নভেম্বরের জন্যও তারা বোমা বানাচ্ছিল।
গান পাউডারের বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন যে, গান পাউডারগুলো চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গা থেকে এগুলো কালেকশন করে। এটা বানানোর জন্য বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা লোক কালেকশন করে। তারা আরও জানায় যে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ কাজ করে আসছে। ভালো পদ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃবিন্দরা ঢাকা শহরকে অস্থিতিশিল করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক নিয়ে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা অনেকের নাম পেয়েছেন এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গান পাউডারসহ গ্রেপ্তারকৃতরা শিকার করেছে তাদের নেতা হচ্ছে টুকু, মিন্টু ও রবিউল। আমরা গ্রেপ্তাররাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইব যে তাদের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, অন্য আর কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা তা বের করার জন্য। এছাড়া ৫ ও ৬ নভেম্বর তারা ব্যতিত আরও কেউ বোমা বিস্ফোরণের জন্য অন্য কোনো জায়গায় কারিগর আছে কিনা তাও খুঁজে বের করা হবে।