বিশ্বকাপের শেষ পক্ষকাল এগিয়ে আসছে। এই লগ্নে এসে এটা অন্তত স্পষ্ট যে বিশ্বকাপের ফেভারিট দল ভারত রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। টানা সাত ম্যাচের সবগুলোতে জয়। কোনো দলই তাদের হারাতে পারেনি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সাত ম্যাচের ছয়টিতে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে টাইটানরা। দুই দলই একে অপরের ব্যাটিং আর বোলিংয়ে নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা দেখাতে চাইবে। এটাও ধরে নেওয়া যায় এই দুই দল ফাইনালেও মুখোমুখি হবে। তাই এই ম্যাচটা যারাই জিতবে, তারা শুধু এগিয়েই থাকবে না সঙ্গে পাবে আত্মবিশ্বাসও।
উভয় দলেরই আছে শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং লাইন-আপ। তাতে লড়াইটা জমে উঠবে। হাড্ডাহাড্ডি আর টানটান উত্তেজনার একটি ম্যাচই অপেক্ষা করছে। মোহাম্মদ শামি দুর্দান্ত খেলছেন এবার। মাত্র তিন ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। এছাড়া জাসপ্রিত বুমরার (১৫ উইকেট) আছে উভয় দিকে বলকে সুইং করানোর ক্ষমতা। সিমিংয়ে দক্ষতা দিয়েও তিনি দুর্দান্ত। অন্যদিকে কুইন্টন ডি ককের (চার সেঞ্চুরিসহ ৫৪৫ রান) সেসব বোলিং সামলানোর দৃশ্যটাও হবে রোমাঞ্চকর। যে এই লড়াইয়ে জয়ী হবে সে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রোহিত শর্মা, শুবমান গিল, বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের মতো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপরীতে রাসি ফন পার ডুসেন, এইডেন মার্করাম ও ডেভিড মিলাররা কেমন করেন সেটা ভেবেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি। কেননা উভয় দলে আছে একাধিক ম্যাচ উইনার ব্যাটসম্যান।
বিশাল উচ্চতার গতি আর ছন্দময় পেসার মার্কো জেনসেনের বোলিংয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। যার ঝুলিতে এখন পর্যন্ত আছে ১৬ উইকেট। কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও জেরাল্ড কোয়েটজিকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের যেন মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
পুরো টুর্নামেন্ট-জুড়েই খুব একটা চাপে পড়েনি ভারত। যে ম্যাচগুলো তাদের অবশ্যই জেতা উচিত ছিল সেগুলো তারা জিতেছে সহজেই। কঠিন প্রতিপক্ষদের বিপক্ষেও লড়াইটা হয়েছে অনেকটা একপেশে। এখন পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে তারা একবার মাত্র ৩০০ এর ওপরে স্কোর গড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ বার ৩০০ প্লাস রান করেছে। একবার করেছে ৪২৮। আরেকটি ম্যাচে থেমেছে ৩৯৯ রানে। ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সেরা দুই দল আজকের প্রতিপক্ষরা। তাদের আছে বিশ্বমানের সব ক্রিকেটাররা। তাই কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে জমে ওঠার মতো একটা লড়াই হওয়া উচিত।
এবারের বিশ্বকাপে এর আগে ইডেন গার্ডেনসে মাত্র দুটি ম্যাচ অন্ুিষ্ঠত হয়েছে। ম্যাচগুলো দেখে এটা স্পষ্ট যে খুব কম রানের ইনিংস হয়েছে এখানে। তবে ম্যাচগুলো হয়েছে দারুণ। ফলাফলও অবিশ্বাস্য কিছু ছিল না। নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান উভয়ই বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে। সব দলের পেসাররা উন্নতি করেছে, যে কারণে ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে উভয় দলের পেসারদের নজর কাড়তে হবে।
এই বিশ্বকাপের অন্যতম হতাশা হলো খেলায় রোমাঞ্চকর সমাপ্তির ঘাটতি। বেশিরভাগ ম্যাচই হয়েছে এক তরফা। কিছু তো আবার শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে। সেরা দুটি ম্যাচের একটি ছিল অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি। যেখানে শেষ বলে ৫ রান নিয়ে জিতে তারা। অন্যটি দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তান ম্যাচ। যেখানে ৯২-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ১ উইকেটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিল প্রোটিয়ারা। বাকি সব ম্যাচেই হয়েছে একপেশে লড়াই। আশা টুর্নামেন্টের শেষ বেলায় এসে এক্ষেত্রে পরিবর্তনের দেখা মিলবে।