বরগুনার তালতলীতে নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় টহল দিতে যেতে পারছে না দ্রুতগতির একটি স্পিডবোট। অযত্ন আর অবহেলায় এটি এখন নষ্টের পথে। ড্রাইভার ও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় স্পিডবোটটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি মৎস্য বিভাগের।
জানা যায়, উপজেলার পায়রা নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকার করছে প্রায়ই। এই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদীতে টহল দিতে উপজেলা পরিষদ থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাঁচ লাখ টাকায় একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট দেয় মৎস্য বিভাগকে। এতে নদীতে টহল কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার কথা থাকলেও ড্রাইভার ও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় দ্রুতগতির স্পিডবোটটি ব্যবহার করছে না উপজেলা মৎস্য অফিস। এতে পাঁচ লাখ টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
স্পিডবোটটি বর্তমানে খালের ভেতরে অযত্ন ও অবহেলায় অচল হয়ে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে এটি এখন বিকলপ্রায়।
তালতলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মু. আ. মোতালিব বলেন, এই উপকূলীয় উপজেলায় নদীতে টহল দিতে একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত চার বছরে এটিকে ব্যবহার করতে দেখিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমি যোগদান করার আগে এই স্পিডবোটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। যোগদানের পর এটা ব্যবহারই করতে পারিনি। তবে, যতটুকু জানি ড্রাইভার ও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় স্পিডবোটটি খালে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। স্পিডবোটটি চালু করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল কবির বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে টহল কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য এই স্পিডবোটটি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন জ্বালানি ও চালক না থাকায় অচল হয়ে পড়ে আছে। পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা করে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।