২০১৬ সালে পাট ব্যবসায়ী আজবাহার মাদবরের সঙ্গে সালমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। আজবাহার আর সালমার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল। তবে সালমার সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদদের ঝগড়া লেগেই থাকত। পারিবারিক কলহ আর নির্যাতন সইতে না পেরে সালমা তার তিন সন্তানকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের লোকজন। তাদের দাবি, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দুই ননদ সালমাকে প্রায় শারীরিক নির্যাতনও করতেন।
সালমা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের চরভোজেশ্বর এলাকার ভোজেশ্বর-মহিষখোলা কীর্তিনাশা সেতু থেকে তিন শিশুকে নিয়ে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হয় মা-বড় ছেলে। আহত অবস্থায় ছোট ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। মা-ছেলে নিখোঁজের দুই ঘণ্টার পর নড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও মাদারীপুর ডুবুরি দল মা সালমা-ছেলে জাফরকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে।
সালমার বড় ছেলে সাড়ে ছয় বছরের সাহাবী হোসেন জাফর, আড়াই বছরের আনিকা ইসলাম ও দশ মাসের সোলাইমান। সালমা নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাচক গ্রামের বাসিন্দা লোকমান ছৈয়ালের মেয়ে। সালমার স্বামী আজবাহার মাদবর একই উপজেলার জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া বয়াতিকান্দির বাসিন্দা শাহজাহান মাদবরের ছেলে।
নিখোঁজ সালমা আক্তারের মামা লিটন ছৈয়ালের অভিযোগ, আমার ভাগ্নিকে বিয়ের পর থেকেই তার শ্বশুর শাহজাহান মাদবর, শাশুড়ি মিলি বেগম, ননদ কলি আক্তার ও কমলা আক্তার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। গতকাল শনিবার রাতে তারা আমার ভাগ্নিকে মারধর করে। এই ক্ষোভে আজ তিন বাচ্চাকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে সে।
সালমা আক্তারের বাবা লোকমান ছৈয়াল বলেন, আমার মেয়েকে আর নাতিকে ওরা মেরে ফেলেছে। ওদের জন্যই আমার মেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমি এর বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সালমা আক্তারের স্বামী আজবাহার মাদবর বলেন, সকালে আমার সন্তানদের টিকা দিবে বলে বাড়ি থেকে বের হয় সালমা। আমার স্ত্রীর সাথে কারো ঝামেলা ছিল না। কী কারণে ও আমার বাচ্চাদের নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে তাও জানি না। কয়েকদিন ধরে ওর মাথায় সমস্যা হচ্ছিল তাই ভেবেছিলাম ফকির দেখাব।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাসুদ, মো. সেলিম বলেন, সকালে নদীতে ডায়াপার পরা দুই শিশু ভাসছিল। আমরা ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করি। পরে স্থানীয়রা শিশু দুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুনেছি তারা এখন সুস্থ আছে।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি সালমা নামের এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহের কারণে তিন শিশু সন্তান নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। দুই শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারলেও মা ও আরেক সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
নড়িয়া উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার লিডার রওশন বলেন, আমরা ১১টা ২০ মিনিটে সংবাদ পাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি। আমাদের সহযোগিতা করছেন মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ওই নারী ও তার ছেলে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শঙ্কর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, সালমা আক্তার নামে এক নারী তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। স্থানীয়রা দুই শিশুকে উদ্ধার করলেও এখনও নিখোঁজ সালমা ও তার বড় ছেলে। তাদের উদ্ধারের জন্য একটি ডুবুরি দল কাজ করছেন।