নতুন সুর সৃষ্টিতেই আমার বেশি আনন্দ

সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই পুরস্কার নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ, বিতর্ক। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করা বেলাল খানের সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরোজ বিন মশিউর

কেমন আছেন?

আছি আলহামদুলিল্লাহ।

ঠিক এই মুহূর্তে কী কাজ করছেন, কী নিয়েই বা ব্যস্ততা?

শো করছি, মোটামুটি নিয়মিতই। আর এখন সিনেমার একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। ওই ছবিটির সব গান নিয়ে কাজ করব। এসব নিয়েই আছি।

আপনি মূলত কী, সংগীতশিল্পী না সুরকার?

শ্রোতারা আমাকে সংগীতশিল্পী হিসেবে চেনে আর ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী ও সুরকার হিসেবে চেনে।

আপনার জাতীয় স্বীকৃতি একজন সুরকার হিসেবে, কী পরিচয় দিতে ভালোবাসেন?

এখনকার কথা যদি না ধরি তবে একটা কথা বলা যায়, একসময় মেইনস্ট্রিম মিউজিক যারা করেন তাদের পিছে পিছে ঘোরা বা ধরনা দেওয়া ম্যান্ডেটরি ছিল। এখন সময় বদলেছে, তবে একসময় এসবই ম্যান্ডেটরি ছিল। সে সময় কেউ যখন সুযোগ দিচ্ছিল না, উনি গানের সুর করে দেবেন, তিনি গানের সুর করে দেবেন এমন নানা সান্ত¡নাবাণীর মধ্যে যখন সব আশা সীমাবদ্ধ ছিল তখন আমি বাধ্য হয়েই গানে সুর করা শুরু করি। বলতে পারেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতেই বাধ্য হয়ে সুরকার হলাম। তারপর সুরের প্রেমে পড়লাম। এখন সুর করতেই বেশি ভালো লাগে। তাই বলে গান করতে ভালো লাগে না, এমন কথা কিন্তু মোটেও নয়। এখন আমি দ্বৈত স্বত্বা নিয়েই বাঁচি।

আপনার কমফোর্ট জোন কোনটা?

নতুন সুর সৃষ্টিতেই আমার বেশি আনন্দ।

কোন প্ল্যাটফরমে গান গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

প্রত্যেকেরই কিছু সীমাবদ্ধতা ও নিজস্ব স্টাইল আছে। আমি মূলত মেলোডিয়াস ঘরানার গান গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমার জন্য প্ল্যাটফরম মুখ্য নয়, সুরেলা থাকাটাই মুখ্য।

গত কয়েক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে অনেকে অভিযোগ করেন সেখানে নাকি ইনজাস্টিস হয়। এ বিষয়ে একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে আপনার কোনো মন্তব্য আছে কী?

দেখুন, এই পুরস্কারে ২৮টা ক্যাটাগরির মধ্যে মিউজিকের ক্যাটাগরি চারটা। পুরস্কার পান চারজন, কখনো যৌথ হওয়ার কারণে একটা বা দুটো বাড়তে পারে। প্রতি বছর দেশে সিনেমায় অসংখ্য গান হচ্ছে। কত কত ভালো ভালো গান। সবাইকে সন্তুষ্ট রেখে এই একটা পুরস্কার দেওয়া সম্ভব না।

এখনকার সফটঅয়্যারভিত্তিক মিউজিক কম্পোজকে কতটা সমর্থন করেন?

বেশিরভাগ সময় সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ চাইলেও অ্যাকুস্টিক ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন না। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা চাইলেও এর বাইরে যেতে পারি না। কিন্তু ম্যানুয়াল জিনিসের আবেদন তো আর সফটওয়্যার দিয়ে মেটানো সম্ভব না।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকে কী সর্বোচ্চ সাংগীতিক মানদন্ড মনে করেন?

পুরস্কারকে কখনোই কাজের স্বীকৃতি মনে করি না। এটা শুধু একটা সম্মান, ভালো কাজের মানদ- নয়।