প্রতিরোধ যুদ্ধের কারণে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পার করছেন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সম্প্রতি চীন সীমান্তবর্তী শান রাজ্যে মিয়ানমারের জান্তা নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে শতাধিক নিরাপত্তাচৌকির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে চীন-মিয়ানমার বাণিজ্য যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়েছে। বিমান হামলা চালিয়েও জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের বাহিনী দখল ধরে রাখতে পারেনি। গত সোমবার জাতিসংঘ জানায়, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিল ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, যারা মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি, দি আরাকান আর্মি এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি নামের তিন সংগঠনকে এক ছাতার তলায় নিয়ে অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়। যুদ্ধের পর তা’আং আর্মির নেতা তার পার্ন লা বলেন, ‘আমরা সামরিক বাহিনীর শতাধিক চৌকির দখল নিয়েছি।’
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) রাজনীতিক ও আইনপ্রণেতারা ছায়া সরকার গড়ে তুলে প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন রাজ্যের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সশস্ত্র দলগুলোও।
অবশ্য সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে কয়েকটি শহর হারানোর কথা স্বীকার করেনি। বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়া শহরগুলোর মধ্যে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চীনের ইউনান প্রদেশের চিনশিয়াউ, যার মাধ্যমে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্য হয়।
সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নং রং সোমবার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসকারী চীনা নাগরিক ও সম্পত্তি রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বেইজিং।
সীমান্ত এলাকায় চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে যেসব অপরাধমূলক কাজ চলত তা বন্ধ করতে মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষকে চাপ দিচ্ছিল বেইজিং। কিন্তু সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তো পারেইনি, বরং নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এরপর নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই চীনা নাগরিক ও সম্পত্তির নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে চীন সশস্ত্র গোষ্ঠী তিনটিকে সমর্থন দেওয়া শুরু করেছে, এমন বক্তব্য নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ মিত্রতা বজায় রাখলেও চীন অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসের বার্মা কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাসন টাওয়ার্স বলেন, মিয়ামনারে ভূ-কৌশলগত অগ্রগতির জন্য চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং ক্রমবর্ধমান রেল যোগাযোগের মাধ্যমে চীন দেখাতে চায়, তারা সামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু এটি স্পষ্ট হয়েছে, এসব কাজ করতে জান্তার বৈধতা কিংবা ক্ষমতা, কোনোটাই নেই।