ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্বমানের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাজ শুরু করেছেন প্রতিভাবান আলেম মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান চৌধুরী। সেই লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষা সিলেবাসের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন বিশ্বমানের একটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নাম ইনস্টিটিউট অব ইনোভেটিভ থট (আইআইটি)।

কাতারপ্রবাসী এই আলেমের স্বপ্ন ‘আইআইটিতে যারা পড়াশোনা করবে তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই অর্জন করবে না, পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায়ও শিক্ষিত হবে।’ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়, নানা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এখানকার সিলেবাস তৈরিতে মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে সাহায্য করেছে বলেও জানালেন তিনি। মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান চৌধুরী একটি বহুমুখী শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বাবা প্রভাষক আবদুল মান্নান চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে বাংলা বিভাগের লেকচারার হিসেবেই অতিবাহিত করেন কর্মজীবনের পুরোটা সময়। তার পরিবারের একাধিক সদস্য দেশে প্রচলিত তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থায়-ই (কওমি, আলিয়া ও জেনারেল) পড়াশোনা করেছেন। ফলে সেসব শিক্ষা থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতাও কাজে লেগেছে আইআইটিকে আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে।

এ প্রসঙ্গে কাতারপ্রবাসী এই আলেম বলেন, ‘ আমরা পাঁচ ভাই। বাংলাদেশে প্রচলিত তিন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, তাতে আমরা উপলব্ধি করি যে, সবগুলোর সার-নির্যাস নিয়ে নতুন ধারার একটি শিক্ষা-কারিকুলাম তৈরি করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। সে দাবি সামনে রেখেই ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আমরা আইআইটি শুরু করি এবং আল্লাহর রহমত ও তওফিকে এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছি।’

কিন্তু সত্যি কথা হলো ‘আইআটি’ নামটি শুনে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি মাদ্রাসা। তবে প্রতিষ্ঠাতার দাবি ‘উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিষ্ঠান’ নামের অর্থের মতোই উদ্ভাবনী চিন্তার চাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে তার প্রত্যেকটি কাজে। কারণ, মাদ্রাসা হলেও এখানে আরবির পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিত পড়ানো হয় একেবারে স্কুলের মতোই। শুধু তাই নয়; কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কিডস ইংলিশ স্পিকিং, কোডিং ও কিডস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এখানে পাঠদান করানো হয়।

মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি রিফ্রেশমেন্টের জন্য এখানে রয়েছে প্রচুর শিক্ষামূলক খেলাধুলার উপকরণ। স্টুডেন্টদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আইআইটির এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিসগুলো চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর নজর কারতে সক্ষম হয়েছে আইআইটি। আর এখন তো দেশবাসীও প্রত্যক্ষ করছে আইআইটির অভিনব শিক্ষা-কারিকুলাম। তিনি আইআইটি সাফল্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।