দারুণ শুরু করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। শুরুতেই পেয়েছিল দুই গোল। কিন্তু মার্কাস রাশফোর্ড লাল কার্ড দেখার পরই বাধে বিপত্তি। বড় জয়ের আভাস যারা দেখিয়েছিল শুরুতে, তারাই ম্যাচটা হেরে বসে কোপেনহেগেনের কাছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের মাঠে বুধবার ‘এ’ গ্রুপে সাত গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটি ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে কোপেনহেগেন। প্রথম লেগে ইউনাইটেডের মাঠে হেরেছিল তারা।
এই জয়ে চার ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো কোপেনহেগেন, ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখল নকআউট পর্বের আশা। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে গালাতাসারাই। ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে ইউনাইটেড।
খেলার তৃতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে ওয়ান-বিসাকার পাস বক্সে পেয়ে একটু এগিয়ে বাইলাইনের উপর থেকে গোলমুখে আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান স্কট ম্যাকটমিনে। ক্লিয়ার করতে পারেননি কেউ। টোকায় বাকি কাজটুকু অনায়াসে সারেন দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা হয়লুন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
১৬ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যানইউয়ের জনি ইভান্স; বদলি নামেন রাফায়েল ভারানে।
২৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কোনাকুনি পাস ধরে বেশ খানিকটা এগিয়ে শট নেন আলেহান্দ্রো গারনাচো। গোলরক্ষক ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল জালে জড়িয়ে দেন হয়লুন।
৪১তম মিনিটে র্যাশফোর্ডের সরাসরি লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউনাইটেড। এলিয়াসকে বক্সের ঠিক বাইরে বাজেভাবে ফাউল করেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। বেশ খানিকটা সময় নিয়ে ভিএআর-এ চেক করে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফ্রি কিক ফেরানো ফের্নান্দেসের হেড নিজেদের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।
হঠাৎ ঝড়ে খেই হারিয়ে ফেলে ইউনাইটেড। মুহূর্তেই হজম করে দুই গোল। বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে দুই গোল শোধ করে কোপেনহেগেন।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকে ইউনাইটেডকে চাপ দিতে থাকে কোপেনহেগেন। ৫২তম মিনিটে ডেনিস ভাভরোর শট ঝাঁপিয়ে গ্লাভসে জমান আন্দ্রে ওনানা। সাত মিনিট পর গনসালভেসের নিচু জোরাল শটও ফেরান তিনি।
৬৯তম মিনিটে ফের্নান্দেসের সফল স্পট কিকে ফের এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। এবার বক্সে ম্যাগুইয়ারের হেডে লুকাস লেরাগেরের হাতে লাগলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ইউনাইটেডের এ আনন্দও উবে যায় ৮৩তম মিনিটে কাছের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত শটে লুকাস লক্ষ্যভেদ করলে।
চার মিনিট পর ইউনাইটেডকে হতাশায় ডোবায় কোপেনহেগেন। বক্সে ফাঁকায় থাকা সাইড ভলিতে জয়সূচক গোলটি করেন রুনি বার্দগি।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাগুইয়ারের শট ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে গেলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি ইউনাইটেডের। রোমাঞ্চকর জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসে ডেনমার্কের ক্লাবটি।