কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় ম্যাচ। সেদিন আল রাইয়ানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ভালোই লড়াই করছিল। ম্যাচটা তারা হারে ২-১ গোলে। কিন্তু লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে ৯০ মিনিট খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল প্রতিটি অজি ফুটবলারের। শুধু গত আসরেই নয়, ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা দেশটি ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত খেলে টুর্নামেন্টটিতে। বড় বড় দলকে চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেয়। সেই দলটার বিপক্ষে খেলতে আজ অস্ট্রেলিয়া রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
১৬ নভেম্বর এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘আই’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। যারা বিশ্বকাপের আসরে নিয়মিত অংশ নেয়, তাদের সঙ্গে জামাল ভূঁইয়ার কেমন ফুটবল খেলবেন? এই প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। তবে জবাবটা কঠিন নয়। আর সেটা, যত কম গোল হজম করা যায়।
কাগজে-কলমে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। যার একটা উদাহরণ, নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলা। ফিফা র্যাংকিংয়ে তারা আছে ২৭ নম্বরে। তাদের একাধিক ফুটবলার আছে ইউরোপিয়ান ক্লাবের হয়ে খেলে। ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের বর্তমান কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তেকগলুও অস্ট্রেলিয়ান। তিনিও খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে। তার উত্তরসূরিরা এখন এশিয়ান ফুটবলে চোখে চোখ রেখে লড়াই করছেন। স্বাভাবিকভাবেই র্যাংকিংয়ের ১৮৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ তাদের বিপক্ষে কেমন খেলার প্রত্যাশা নিয়ে যাচ্ছে, সেটা প্রশ্ন জাগানিয়া বিষয়।
গতকাল বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আয়োজিত দলীয় সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়েই হয়েছে আলোচনা। জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কথায় বোঝা গেছে, এদের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই বাংলাদেশের। তবে পাওয়ার আছে অনেক কিছুই। দুজনের কণ্ঠেই ভালো খেলার প্রত্যয়। তারা মনে করেন এই ম্যাচ লাল-সবুজের ফুটবলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লড়াই। পথটা অবশ্যই কঠিন, কিন্তু বাংলাদেশের প্রমাণ করার আছে অনেক কিছুই।
কোচ কাবরেরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজের রোমাঞ্চের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘এ ম্যাচটা আমাদের আরও উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে যাওয়ার ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলাটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য খুবই ইতিবাচক একটা ব্যাপার হবে।’
বাংলাদেশের মতো পর্যায়ের দলগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাটা যেকোনো বিচারেই কঠিন। শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতায় দুটি দলের মধ্যে কোনো তুলনাই হয় না, সেখানে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির আগে উঠে আসছে অনেক প্রশ্ন। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা কোন মানসিকতা নিয়ে নামবেন? তাদের করণীয়টাইবা আসলে কী হবে?
কোচ কাবরেরার কথা যেকোনো বিচারেই নিজেদের ভালো খেলার লক্ষ্যটা মাঠে বজায় রাখতেই হবে, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক কঠিন দল। এটা নিশ্চিত ম্যাচে তারা আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেই খেলবে। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, কোনোভাবেই যেন লড়াকু মনোভাবে কোনো ঘাটতি না দেখা দেয়। খেলোয়াড়দের নিজেদের করণীয়টা ঠিকমতো করতে হবে। নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে।’
কোচের কথায় পরিষ্কার, তারাও এ ম্যাচে জয়ের আশা করছেন না। তবে লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ভালো খেলার প্রত্যয় আছে তাদের। একই সুরেই যেন কণ্ঠ মেলালেন বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। যিনি আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো খেলতে নামবেন।
পার্থ আর ঢাকায় ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটিতেই খেলেছিলেন জামাল। পার্থে ৫-০ আর ঢাকায় ৪-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এ ফলাফলই বলে দেয় ব্যবধানটা কতটুকু! তবে অধিনায়ক জামালের চোখে এই বাংলাদেশ দলটা আট বছর আগের সেই দলের চেয়ে আলাদা, ‘এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দল নিয়ে আমরা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি। আগেরবারের সঙ্গে এবারের দলের অনেক পার্থক্য। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমরা ভালো খেলব। অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী দল। বছরের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটা দিতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি।’
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ দল আছে টানা খেলার মধ্যে। সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। তারপর তরুণদের অনেকেই গিয়েছিলেন এশিয়ান গেমসে। অক্টোবরে আবার মালদ্বীপের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রাথমিক পর্বের দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইতিবাচক। আর তাই দ্বিতীয় পর্বেও সেই ইতিবাচকতাই ধরে রাখতে উদগ্রীব জামাল, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে আমাদের নিজেদের পারফরম্যান্সটাই জরুরি। সেটিই ধরে রাখতে হবে। সম্প্রতি আমরা ভালো খেলেছি। মালদ্বীপকে হারিয়েছি, আফগানিস্তানের সঙ্গেও ভালো করেছি। মেলবোর্নে গিয়ে আমরা যেন বেশি উচ্ছ্বসিত না হই। নিজেদের লড়াকু প্রমাণ করতে চাই।’
আজ সকালে শেষ অনুশীলন সেশন করবে বাংলাদেশ দল। রাতে জামালরা দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে ধরবেন অস্ট্রেলিয়ার বিমান।