জামালপুর জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছেন। কারাগারে ৩৩১জন বন্দি থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৭৮৭জন। এরমধ্যে রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন ১৩৪জন। যে তুলনায় বন্দিরা নতুন করে এ কারাগারে আসছেন সে তুলনায় জামিনে বের হচ্ছেন কম বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত বন্দি থাকায় তাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বন্দিদের থাকা-খাওয়ার কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৯ সালে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় স্থাপিত হয় জেলা কারাগার। কারাগারটি প্রায় ১৫ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়। শুধুমাত্র কারাগার ভবনটি চার একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮টি পুরুষ কক্ষ ও চারটি নারী কক্ষ রয়েছে। এ ছাড়াও মেডিকেল ওয়ার্ডে ১০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সবমিলিয়ে জেলা কারাগারের আসামি ধারণক্ষমতা ৩৩১জন।
বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ৭৮৭ বন্দি। তাদের মধ্যে ৬৮৬জন হাজতি ও ১০১জন কয়েদি রয়েছেন। এ কারাগারে ৬৬৪জন পুরুষ ও ২২জন নারী হাজতির পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৯৯জন পুরুষ ও দুজন নারী কয়েদি রয়েছেন। ৬৮৬জন হাজতির মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন ১৩৪জন। এদের মধ্যে নাশকতার মামলার আসামি ১৩জন। বন্দিদের চিকিৎসা সেবায় তিনজন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবরের পর নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তবে গত কয়েকদিনে প্রায় দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
জেলা কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির বিষয়ে জামালপুর জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ধারণক্ষমতার চেয়ে বাড়তি বন্দি থাকায় নানারকম ভোগান্তি হয়। এতে বিভিন্ন সংক্রমণব্যাধি, পয়নিঃষ্কাশনসহ খাওয়া ও ঘুমানোর সমস্যা হয়ে থাকে। ঘুমের সমস্যার কারণে বন্দিরা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন।’
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেওয়ার্ক জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এ কারাগারটি প্রাচীনতম কারাগার। এ কারাগারে সবসময় ধারণক্ষমতার অনেক বেশি বন্দি থাকে। এতে বন্দিদের জীবনযাপনে সমস্যা হয়। কারাগারের বন্দিদের জীবনযাপনের ভোগান্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এ কারাগারের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত এই উন্নয়নকাজ শেষ করে কারাগারের বন্দিদের ভোগান্তি দূর করার দাবি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ বলেন, ‘কারাগারে বাড়তি বন্দি থাকলেও থাকা-খাওয়ার কোনো সমস্যা নেই। তবে কারাগারের যে উন্নয়নকাজ চলমান সেটি শেষ হলে বন্দিরা আরও অনেক বেশি সুযোগসুবিধা পাবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে জামালপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার তাসনীম জাহানের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।