ফেনীতে সেই ছাত্রলীগ নেত্রীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নেত্রীর নাম সাদিয়া সুলতানা রাত্রি। তিনি ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে গতমাসে ফেসবুকে সাবেক আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে নিজের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই ছাত্রলীগ নেত্রী।
রাত্রি তার বিরুদ্ধে হামলা ও অপপ্রচারের জন্য জেলা ছাত্রলীগের একাংশকে দায়ী করে বলেন, ইতিপূর্বে প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমার ছবির সাথে অরেকজনের ছবি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করে। কলেজ কমিটি হওয়ার সময় থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমাকে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছে। আমি নারী হওয়ায় তারা এ রকম ষড়যন্ত্র করছে।
শুক্রবার রাতে সাদিয়া সুলতানা রাত্রি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, এডিট করা ছবি দিয়ে যখন আমাকে দমানো যায়নি, আমি যখন তাদের অন্যায় আবদারের সাথে আপোষ করিনি এবং আমি যখন আইনের আশ্রয় নিচ্ছি ঠিক তখনই আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় আমাকে গাড়ি চাপা দেওয়া হয়। আমার অপরাধ আমি একটা মেয়ে, আর একটা মেয়েকে জননেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি মহোদয় কেন নেতৃত্বে নিয়ে আসলো। আমি এই মাঠ ছেড়ে যাব না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাব সেইসব অপশক্তির বিরুদ্ধে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছি। মামলার জেরে পরেরদিন শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কের জেড ইউ মডেল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার সময় একটি টমটম থেকে আমাকে ফেলে চালক গাড়িচাপা দিয়ে চলে যায়। বর্তমানে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা এমন ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেন রাত্রি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ তপু বলেন, রাত্রির ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানানো হয়েছে। আমরা শীঘ্রই তার সাথে কথা বলে পদক্ষেপ নেব।