বরগুনার তালতলীতে ৩১টি খাস (সরকারি) পুকুর প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। ২২টি পুকুর দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে প্রভাশালীদের কারণে তা হয়ে উঠেনি। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলায় ২৩ একর ৯৬ শতাংশ সরকারি জমিতে ৩১টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ২২ একর সরকারি জমিতে ২২টি পুকুর অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ইজারা দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এরপর প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে কাউকে আবেদন করতে দেয়নি। সে সময় দুইটি পুকুরের ইজারা নেওয়ার জন্য মাত্র দুইটি আবেদন জমা হয়। সেই আবেদন দুটিও অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের নামে খাস পুকুর ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে ওই বছরে ২২টি পুকুরের প্রায় কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। এ ছাড়াও ৯টি খাস পুকুর পুরোপুরি দখল ও মাছ চাষের অনুপযোগী থাকায় সে সময় ইজারা দেওয়ার জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের নাম ব্যবহার করে পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। এসব পুকুর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে মাছ চাষ করে আসছে। দখল করার সাইনবোর্ড হিসেবে মসজিদের নামে মাছ চাষের অজুহাত দেখিয়ে নিজেরা সুবিধা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দত্ত বলেন, জলমহাল ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইট, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রচার এবং মাইকিং করা স্বত্ত্বেও অনলাইনে ইজারার আবেদন না পাওয়ার ব্যাপারটি সত্যিই বিস্ময়কর। জলমহালসমূহ ইজারা না হওয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব জলমহাল দখলমুক্ত করে ইজারার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আশা করি আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাবে ও সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হবে।