দেহকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে নানা ভিটামিন আর খনিজের কথা নানা জায়গা থেকে আমরা জানি-শুনি। কিন্তু এত পুষ্টি উপাদানের মধ্যে মানবদেহের জন্য জরুরি এক উপাদানকে আমরা তেমন আলোচনায় আনি না। অনেকে হয়তো জানিই না। এই খনিজ উপাদানটি হলো তামা, হ্যাঁ অবাক লাগছে যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র আর মূর্তি-ভাস্কর্য কিংবা হাড়ি-পাতিলের উপাদান আবার মানুষের শরীরে কেন লাগবে? কিভাবেই বা তামা আমাদের দেহে যাবে? মানবদেহে তামার উপকারিতাই বা কী?
আসুন, এক এক করে এসব প্রশ্নের উত্তর জানা যাক। জানলে অবাক হবেন, তামা শরীরে শক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চাঙ্গা রাখা, স্নায়ুর কাজে সাহায্য করা সহ একাধিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তো সুস্থ থাকতে হলে দেহে তামার খনিজের ঘাটতি হতে দেওয়া চলবে না। কিন্তু তামা আমাদের দেহের কাজেও কতটা জরুরি তা হয়তো অনেকে জানেন না। অজ্ঞতা-অবহেলার কারণে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা অনেকের জন্য তাই কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে ভালো খবর হল, আমাদের হাতের কাছে মজুত থাকা কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলে এই খনিজের ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে এমনই ৫ টি ‘কপার রিচবা তামা সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জেনে নিন। আর যত দ্রুত সম্ভব এই খাবারগুলিকে খাদ্য তালিকায় নিয়ে নিন। আশা করছি, এইটুকু করলেই আপনি একাধিক সংক্রামক অসুখের ফাঁদ অনায়াসে এড়িয়ে চলতে পারবেন।
মাশরুম: পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, নিরামিষ খাবারের মধ্যে মাশরুমের জুড়ি মেলা ভার। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার। এমনকী নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহে তামার চাহিদাও মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। তবে উপকার পেতে চাইলে অত্যাধিক ভেজেভুজে মাশরুম রান্না করবেন না। বরং অল্প তেলে সিদ্ধ করে রেধে ফেলুন। তাতেই উপকার পাবেন।
আলু: মাঝারি আকারের একটি সিদ্ধ আলু থেকে মোটামুটি ৬১০ মাইক্রোগ্রাম তামা মিলতে পারে। তাই দেহে এই খনিজের ঘাটতি মেটাতে চাইলে সহজলভ্য আলুই বেছে নিতে পারেন। মনে রাখা ভালো যে, সাধারণ আলুর পাশাপাশি মিষ্টি আলু খেলেও একই উপকার মিলবে। কারণ একটা মাঝারি আকারের মিষ্টি আলুতেও মোটামুটি ১২০ মাইক্রোগ্রাম তামা রয়েছে। তাই সুস্থ থাকতে এই সবজিকেও ডায়েটে জায়গা করে দিন।
টোফু: সোয়াবিনের দুধ থেকে তৈরি পনিরের নাম হল টোফু। আর এই খাবারেও রয়েছে তামার ভাণ্ডার। মাত্র ১০০ গ্রাম টোফু থেকে ৩৯৮ মাইক্রোগ্রাম তামা মেলে। শুধু তাই নয়, এই খাবার হল প্রোটিনের ভাণ্ডার। তাই পেশির জোর বাড়াতে চাইলেও আপনাকে নিয়মিত টোফুর তরকারি খেতে হবে। আর কাজের কথা হল, এই পনির খেলে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধ খেলে যাদের সমস্যা হয় তাদেরও ভয় নেই। তাই ছোট থেকে বড় সবাই টোফু খেতে পারেন।
সূর্যমুখীর বীজ: এ ফুলের বীজ হল একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজের ভাণ্ডার। এমনকী এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তামাও রয়েছে। শুধু তাই নয়, সূর্যমুখীর বীজ হল ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের খনি যা কিনা হার্ট ও ব্রেনের স্বাস্থ্যের হাল ফেরানোর কাজে বেশ পটু। তাই আপনার রোজের ডায়েটে সূর্যমুখীর বীজ রাখতেই পারেন। এতেই উপকার পাবেন হাতেনাতে।
ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট খেতে ভালোবাসেন? তাহলে আর চিন্তা নেই। কারণ এই চকলেটেও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে তামা। শুধু তাই নয়, এতে মজুত থাকা অত্যন্ত উপকারী কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের হাল ফেরানোর কাজেও একাই একশো। এমনকী ইমিউনিটিকে চাঙ্গা রাখার কাজেও এর জুড়ি মেলা ভার।