জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বনভূমি উজাড় করে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ না করে অংশীজনের মতামত নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবিতে সংহতি সমাবেশ হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে ‘জাহাঙ্গীরগর বাঁচাও আন্দোলন’ ব্যানারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও অ্যাক্টিভিস্ট ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংহতি সমাবেশের সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জোবাঈদা মৌটুসী ও অর্থনীতি বিভাগের প্রাপ্তি দে তাপসী।
এ সময় বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগে ক্লাস করার জন্য ও শিক্ষকদের বসার জায়গার অভাব রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধান না করে প্রশাসন একের পর এক নতুন বিভাগ খুলছে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সাল থেকে শুনে আসছি একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে। লেকের পাড়ে রাস্তার পাশে নতুন কলাভবন নির্মাণ করার ফলে গাড়ির শব্দে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় সমস্যা হয়। জহির রায়হান মিলনায়তনের ভেতরে গরমে বসা যায় না। এইভাবে স্থাপনার নির্মাণে কারা সিদ্ধান্ত নেয় তার জবাব পাওয়া যায় না।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, প্রশাসন মনে করছে টাকার ভাগ দিয়ে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখবে। ২০১৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম আন্দোলনকারীদের বলেছিলেন, ‘তোমাদেরও টাকার দরকার?’ তাদের কাছে টাকাই সবকিছু। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে সেই অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকা পেয়ে প্রশাসন খরচ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গাছ কেটে উজাড় করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী বলেন, ‘প্রকল্পের বরাদ্দের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চরিত্র নষ্ট হয়েছে, কর্মকর্তাদের চরিত্র নষ্ট হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একটি অংশের চরিত্র নষ্ট হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যত্রতত্র ভবন বানিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর পাঁয়তারা চলছে। আমার মনে হয় উইকেন্ড প্রোগ্রাম চালু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ই তার চরিত্র হারিয়েছে।
অর্থনীতিবিষয়ক গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাহা মির্জা বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশের মোট আয়তনের তুলনায় বনভূমি অনেকটাই কম। এজন্য আমাদের দেশের যে প্রান্তেই বনভূমি রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ আমরা গেল গ্রীষ্মের মৌসুমে দেখেছি পরিবেশের তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য প্রশাসনের উচিত পরিকল্পিতভাবে প্রকৃতি ধ্বংস না করে উন্নয়ন করা।’
সংহতি সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) শিক্ষক অলিউর রহমান সান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ফরিদ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি মুশফিক-উস-সালেহীন, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক সাদিকুল ইসলাম সোহেল, পরিবেশ উপ-পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক পারভীন ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতা মাহাথির মোহাম্মদ, সাভার উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, সমাজকর্মী সৈয়দ রত্না প্রমুখ।