শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম। সেই ঘোষণায় আকৃষ্ট হয়ে টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পুরস্কার জিতে নিয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার আদি টাঙ্গাইল ছাপড়া মসজিদ এলাকার ৩৩ জন কিশোর।
গত শুক্রবার বিকেলে আদি টাঙ্গাইল বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইনের উদ্যোগে মসজিদের পরিচালনা কমিটি ৩৩ জন নামাজি কিশোরের হাতে পুরস্কারের বাইসাইকেল ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। মসজিদ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে মসজিদের ইমাম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ১৫ বছরের কম বয়সের কিশোররা যদি একটানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। তাহলে তাদের একটি করে বাইসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখী করার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। আদি টাঙ্গাইল বায়তুল আমান জামে মসজিদের উদ্যোগে এই আয়োজনকে এলাকার সবাই স্বাগত জানিয়েছেন। নামাজে অংশ নেওয়া কিশোর রুলীন রাহাত, শিমরোজ হাসান শিহাদ, সাবিদ হোসেনসহ অনেকেই বলে, শুধুমাত্র পুরস্কারের জন্য নয়, বরং মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতেই নামাজ আদায় করেছে তারা। তবে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়ায় নামাজের প্রতি আগ্রহটা আরও বেড়ে যায়।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন বলেন, মূলত কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহ এবং নামাজ সহিহ-শুদ্ধভাবে শিখতে পারে সেই উদ্দেশ্যে এই টানা ৪০ দিন জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার ঘোষণা। ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৭০ জন কিশোর মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু করে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কি না হিসাব রাখার জন প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেওয়া হতো। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকত তখন তার গণনা বন্ধ করে দেওয়া হতো। প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। বরং সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালাও শেখানো হয়। নামাজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইছহাক উদ্দিন, কার্যকরী কমিটির সদস্য মুয়াজ্জিন হাফেজ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।