ক্যাসেট থেকে নম্বর নিয়ে শিল্পী সুরকারদের ফোন করতাম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিতে যাচ্ছেন রবিউল ইসলাম জীবন। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এই অর্জন তার। পুরস্কার হাতে নেওয়ার আগেই জনপ্রিয় এই গীতিকারের মুখোমুখি হলেন মাহতাব হোসেন।

গান লিখবেন, এই চিন্তা কখন মাথায় এলো?

আমি যখন চট্টগ্রামের কমার্স কলেজে ইন্টারে পড়ি, তখন নানাভাবে সংগীতের দিকে প্রভাবিত হই। সেটা ২০০২ সাল। তখন আসিফ আকবরের ‘ও প্রিয়া কোথায়’ মুক্তি পেয়েছে। চারদিকে সেই গান বাজছে। বাসায় গেলে সামনে বাবলু ভাইদের বাসায় গান বাজছে। আমাদের পাশের এলাকার দিদার ভাই গান করছেন, তখন মনে হলো আমিও গান লিখব।

কখন প্রথম গান লিখলেন? আর চট্টগ্রামে থেকে গান প্রকাশের চেষ্টা করলেন কীভাবে?

কলেজ থেকে ফেরার সময় আমার মাথায় এলো কয়েকটা লাইন। লিখে ফেললাম। এরপর ৫০টি গান লিখেছি। ইন্টার পড়া অবস্থায় গান নিয়ে ঢাকায় এলাম। স্টুডিওপাড়ায় ঘুরলাম, স্টুডিও খুঁজে দাঁড়িয়ে থাকলাম। লাভ হলো না, ফিরে এলাম চট্টগ্রামে।

তারপরও তো থামেননি, গান তো প্রকাশ হলো। এর গল্পটা যদি বলতেন?

আমি বুঝেছিলাম ঢাকায় স্থায়ীভাবে না এলে আমার গীতিকার হওয়া হবে না। ২০০৩ সালে ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে কোনো কিছু না ভেবেই ঢাকা চলে এলাম। শুরু করলাম টিউশনি, ভর্তি হলাম তিতুমীর কলেজে। এরপর গান লেখার জন্য পথে নামলাম। সুযোগ তৈরি হলো। লিখলাম পল্লব সান্যালের সুরে ভাড়াটিয়া চাই, রাজেশের সুরে ভালোবাসি বলে। দুটো গানই বের হলো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ অ্যালবামে। গেয়েছিলেন আসিফ আকবর। জীবনে এটা আমার বড় পাওয়া।

গান লেখার শুরুর জীবনটা কতটা কঠিন ছিল?

সেটা খুবই কঠিন এক জীবন। হেঁটে হেঁটে বেইলি রোড, মগবাজার ঘুরে বেড়াতাম। স্টুডিওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। ঢুকব কি না, ভয় লাগত। এমন অজস্র দিন গেছে। আর চট্টগ্রামে থাকতে ক্যাসেটের কভার থেকে নম্বর থেকে শিল্পী, সুরকারদের ফোন দিতাম।

গান লিখতে গিয়ে তীব্র কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যেটা মনে পড়লে এখনো কষ্ট পান?

আসিফ আকবরের ভালোবাসি বলে গান ঈদে প্রকাশিত হচ্ছে। আসিফ আকবর গেয়েছেন, সেই গান ঈদের অ্যালবামে প্রকাশ হচ্ছে এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে?  ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে জানতে পারলাম গানটি অ্যালবামে নেই। আমি এতই কষ্ট পেলাম। খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলাম না। খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লাম, কোথাও যাই না, চুপচাপ পড়ে থাকি। তীব্র জ্বরে পড়ার পর বাসায় চলে গেলাম। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি।

এই সময়ে কারা ভালো লিখছে বলে মনে করেন আপনি?

প্রথমেই বলব, সোমেশ্বর অলি, তারপর জাহিদ আকবর, লুৎফর হাসান, ইশতিয়াক আহমেদ ছাড়াও সমসাময়িক অনেকেই ভালো লিখছেন। অনেকের নাম মনে পড়ছে না।

আপনি ধীরে ধীরে গানে পুরস্কার পাচ্ছেন, এই গান কবে লিখেছিলেন?

এটা ২০১৭ সালে লিখেছিলাম। অন্য একটা সিনেমার জন্য লেখা গান। পরে রায়হান রাফি বললেন, পরাণ সিনেমায় গানটি ব্যবহার করব। ওই সিনেমায় এটা মানানসই। এই গান অনেক দিন পড়ে ছিল। ইউটিউবেও ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ঠিক সেই সময় ইমন চৌধুরী ফোন দিয়ে বলেন, এই গান সিনেমার জন্য কনফার্ম। এভাবে পরাণ সিনেমায় গানটি যুক্ত হয়।