কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ঝর্ণা আক্তার (১৫) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর সাদরের কেন্দ্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুল ছাত্রী একই গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে ও গোত্রশাল কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যান ওই ছাত্রী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঝর্ণার পিতা আব্দুল জলিল বাড়ীর পাশে চা দোকান করে সংসার চালান। এক বছর আগে মা মারা যায় ঝর্ণার। এক মাস আগে দুবাই প্রবাসী জোড্ডা গ্রামের ফুফাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইলে বিয়ে হয় তার। বয়স পূর্ণ হলে ও ছেলে বিদেশ থেকে আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝর্ণাকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা ছিল শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। শনিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ঝর্ণাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার হাসিব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা আব্দুল জলিল বলেন, দুই দিন আগে ঝর্ণার একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে সেটি শুক্রবার রান্না ঘরে পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার বড় ভাই শাহিনের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে স্বামী শাহিনকে নিয়ে বাপের বাড়ি সাতবাড়িয়া চলে যায় সে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে খবর আসে আপনাদের ঘরে চিৎকার শোনা যাচ্ছে। বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। মাস খানেক আগে মোবাইল ফোনে ফুপাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম মেয়ের। তিন বছর পর সে দেশে আসলে তাকে উঠিয়ে নিবে তারা। সব আশা শেষ! সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মেয়ের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নিহতের বোন তানিয়া আক্তার বলেন, আমার বোনকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। থানায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।