‘শো-অফ করতে’ ফেসবুকে ব্লু ব্যাজ কেনার হিড়িক

কয়েকমাস আগে টাকার বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট দেওয়া শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। এরপর থেকেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্লু ব্যাজের হিড়িক। অনেকেই টাকার বিনিময়ে এই সেবা নিচ্ছেন। যদিও অনেকের কাছে এটি অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু শুধুমাত্র শো-অফ করার জন্যই গাঁটের টাকা খরচ করে কেউ কেউ অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবহারকারীদের জন্য টাকার বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার নতুন সেবা নিয়ে হাজির হন মার্ক জুকারবার্গ। এর আগে এই পরিসেবাটি চালু করেন ইলন মাস্ক; নতুন করে টুইটার কিনে নেওয়ার পর।

ব্লু টিক যাচাই করতে প্রোফাইলের জন্য ‘মেটা ভেরিফাইড’ নামক টুইটারের মতো সাবস্ক্রিপশন মডেলের অধীনে গ্রাহকরা ‘মেটা যাচাই করা’ ওয়েবে যাবেন। সেখানে ১১ দশমিক ৯৯ ডলারে প্রতিমাস অথবা আইওএস-তে ১৪ দশমিক ৯৯ ডলার মাসে খরচ করে এ সেবা নিতে পারছেন।

এভাবে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নির্ধারিত চার্জ পরিশোধ করে নিজেদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে পারছেন। আবার কেউ কেউ থার্ড পার্টির মাধ্যমে করাচ্ছেন; এতে অবশ্য টাকা একটু বেশি লাগছে।

এই সেবা চালুর পর থেকে ফেসবুকে হঠাৎ করেই অনেকের অ্যাকাউন্টে ব্লু ব্যাজ দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে উৎফুল্ল অনেক গ্রাহক। তবে অন্যরা আবার এটিকে শুধুমাত্র শো-অফ করার জন্য বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, ‘এতে শুধু টাকার শ্রাদ্ধ হচ্ছে।’

রিয়ান খান নামে একজন লিখেছেন, ‘আগে রিয়েল ইনফরমেশন দিয়ে যখন ফেসবুক ভেরিফাই দিত কোনো টাকাপয়সা ছাড়া তখন কারো প্রোফাইল ভেরিফাই দেখলে ভালো লাগতো; একটা ভাইব কাজ করত। আর এখন টাকা দিয়ে ভেরিফাই করে নিচ্ছে। এটাতে কোনো মজাই নেই। বিরক্তিকর হয়ে গেছে এই জিনিসটা।’

খসরু মিয়া নামে একজন বলছেন, ‘তাহলে এই কথা। টাকা দিয়ে ফেসবুক ভেরিফাই করে এরকম ধাপ্পাবাজি।’

অনেকে আবার এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আগে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার জন্য অনেকে প্রতারিত হতেন। হাজার হাজার টাকা খোয়াতেন। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। একই সঙ্গে মেটা থেকেও নিরাপত্তাসহ বেশকিছু সুবিধাও পাচ্ছেন তারা।