গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা। বর্তমানে সামরিক বাহিনী ও সাঁজোয়া যান দিয়ে হাসপাতালটি ঘেরাও করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এমনকি আশেপাশে কাউকে দেখলেই স্নাইপার দিয়ে গুলি করছে তারা।
পর্যাপ্ত জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে সকল পরিষেবা বন্ধ হয়ে আছে হাসপাতালটিতে। বিদ্যুৎ, পানি ও অক্সিজেন না থাকায় হাসপাতালটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ভেতরে আটকে পড়েছেন প্রায় ২৩০০ বেসামরিক মানুষ ও রোগী। জ্বালানি ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে একে একে মারা যাচ্ছে এনআইসিইউ ও ইনকিউবেটরে থাকা অপরিণত শিশুরা।
হামাসের প্রধান কমান্ড সেন্টার এই ধারনায় বার বার এই হাসপাতালটিকেই টার্গেট করছে ইসরায়েল। কিন্তু ইসরায়েল বাহিনীর এমন পদক্ষেপে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছে নিষ্পাপ শিশুগুলো।
হাসপাতালটির ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-এনআইসিইউতে ৩৯টি প্রিম্যাচিওর শিশু রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় ইতিমধ্যে দুইটি শিশু মারা গেছে। বাকিদের জীবনপ্রদীপও নিভু নিভু।
এদিকে হাসপাতালটির প্রাঙ্গণে মিসাইল হামলার পর বন্ধ হয়ে গেছে সেখানকার জেনারেটর। ফলে ইনকিউবেটরগুলো অচল হয়ে পড়ায় বিছানায় গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে শিশুদের।
যদিও রোববার আল-শিফা হাসপাতালের শিশুদের উদ্ধার করে অন্যত্র স্থানান্তর করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছে সময়ের আগে জন্ম নেয়া এ বাচ্চাদের কোনভাবেই স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসক ও গাজার বিভিন্ন সংস্থার মতে গুরুতর অসুস্থ নবজাতকের স্থানান্তর একটি জটিল এবং প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। কারণ এই শিশুদের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্বাসযন্ত্র এবং ভেন্টিলেটর প্রয়োজন।
হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া স্থানান্তর করতে গেলে মারা পড়তে পারে এই শিশুরা।
এছাড়া গাজায় অন্যান্য হাসপাতালগুলোর ও এই শিশুদের চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা নেই বলছেন চিকিৎসকরা।
সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে এই নবজাতকদের বাঁচানোর জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় হল আল শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলের আক্রমণ এবং অবরোধ বন্ধ করা, হাসপাতালে জ্বালানী পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া এবং এই শিশুদের বাবা-মাকে তাদের সাথে পুনরায় মিলিত করা।