ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে নবজাতকদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা গাজার চিকিৎসকদের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বর্তমানে ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য হাসপাতালগুলো। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালগুলোতে একে একে মারা যাচ্ছে রোগীরা।

এমন পরিস্থিতিতেও গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। জ্বালানি থেকে শুরু করে খাদ্য কিছু প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও সময়ের আগে জন্ম নেওয়া অপরিণত নবজাতকদের বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিদ্যুতের অভাবে হাসপাতালের ইনকিউবেটর অচল হয়ে পড়ায় নবজাতকদের উষ্ণ রাখতে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে রাখা হচ্ছে। খবর দ্যা মিরর।  

এছাড়া জ্বালানির অভাবে ইনকিউবেটর অচল থাকায় একই বিছানায় গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে এমন নিষ্পাপ নবজাতকদের। এর মধ্যে এই হাসপাতালে কয়েকটি অপরিণত নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অপরিণত নবজাতকদের বাঁচিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানায়, বিদ্যুৎ ও অক্সিজেন সরবরাহ ফুরিয়ে যাওয়ায় আল-শিফা হাসপাতালের ইনকিউবেটর অচল থাকায় উপায় না পেয়ে নবজাতকদের ফয়েল পেপারের ওপরে রেখে পাশে রাখা হচ্ছে গরম পানি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হাসপাতালের একটি ছবিতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নবজাতককে ফয়েল পেপারের ওপরে একসঙ্গে রাখা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেহদাত আব্বাস বলেন, ‘শিশুদের ঠান্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের চারপাশে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল রাখা হয়েছে। এখন শীত পড়তে শুরু করেছে। নবজাতকদের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা না থাকলে, তারা মারা যাবে। আমি আশা করি, এই হাসপাতালটি এত দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নবজাতকরা বেঁচে থাকবে।’

এদিকে গত কয়েকদিন আল শিফা হাসপাতালটির আশপাশে হামলা ও অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালের নিচে হামাসের একটি কমান্ড সেন্টার রয়েছে এমন অভিযোগে হাসপাতালের গেটের কয়েক মিটারের মধ্যে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।