এখন থেকে দেশেই হবে জিনঘটিত বিরল ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (এসএমএ)’ রোগের চিকিৎসা। এই রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা ও ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রোশ বাংলাদেশ এবং দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস।
চুক্তি অনুযায়ী এই রোগের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসায় সহায়তা করবে এই তিন প্রতিষ্ঠান।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল মিলনায়তনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ও রোশ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্ক হিব নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে হাসপাতাল মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে মেরুদণ্ডের পেশির অ্যাট্রোফির চিকিৎসা সুবিধা’ শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, দেশে এখন পর্যন্ত ১৬০ জন এসএমএ রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এটি জটিল জিনগত রোগ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা বসতে বা দাঁড়াতে পারে না। চিকিৎসা না পেলে জন্মের দুই বছরের মধ্যে শিশুরা মারা যায়। সাধারণত শরীরে যেসব মাংসপেশি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে, খাবার খেতে, বসার সক্ষমতায়, হামাগুড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং সর্বোপরি হাঁটতে পারার জন্য কার্যকরী, এসএমএ আক্রান্ত হলে সেসব পেশি দুর্বল হয়ে যেতে যেতে এক সময় পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যায়। দেশে এই রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেই। বিদেশে নমুনা পাঠাতে হয়। এই রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘নিউরোসায়েন্সের ইতিহাসে আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিন। এসএমএ রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে হচ্ছে এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। যদিও এই চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল।’
অনুষ্ঠানে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, রোশ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্ক হিব, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি ছাড়াও কোম্পানি দুটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।