বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলের ডাকা পঞ্চম দফার অবরোধে প্রথম দিনে বগুড়ার শেরপুরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জিএম সিরাজের নেতৃত্বে একটি মিছিল উপজেলার হাসপাতাল রোডের মোড়ে ও অন্যদিক থেকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল আসলে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অবরোধের সমর্থনে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি জি এম সিরাজের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বগুড়া মহাসড়কের হাসপাতাল রোডের মোড়ের সামনে পৌঁছালে একই সময় ওই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের মিছিল আসে। সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। এ সময় সেখানে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে পুলিশের ওসিসহ পাঁচজন, এক সাংবাদিক ছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১২ নেতাকর্মী আহত হন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা হলেন, শেরপুর থানার ওসি বাবু কুমার সাহা, এসআই হাসান, কনস্টেবল মো. শামীম, মো. রেজাউল, মো. আলফাজ, স্থানীয় সাংবাদিক এজেট হিরা ও জাতীয় শ্রমিক লীগ শেরপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাজেদুল ইসলাম, সুঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সীমাবাড়ি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কামাল হোসেনসহ ৭জন, বিএনপি- স্বেচ্ছাসেবকদলের আহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলাম। হাসপাতাল রোড এলাকায় এলে আওয়ামী লীগের লোকজন পেছন থেকে এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা ঘুরে প্রতিহত করার চেষ্টা করতেই পুলিশ টিয়ারশেল ছুঁড়তে শুরু করে। এতে আমাদের ১২ জন আহত হয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রথমে আমাদের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে হামলা করে। তারপর আমাদের লোকজন প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আমাদের অন্তত ৭ জন আহত হন।
শেরপুর থানার ওসি বাবু কুমার সাহা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।