মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন যোগাযোগের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। কথা বলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগসহ ইন্টারনেটের অসীম জগতে ঢুকতে স্মার্টফোন এখন সবার পরম প্রিয় ডিভাইস। তবে আর বাকীসব জিনিসের মতো এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস ব্যবহারের বেলায় কিছু আদবকেতা আছে। মোবাইল ফোন কোথায় কিভাবে ব্যবহার করবেন এই আদবকেতা জানাটা আসলে আপনার ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ বুদ্ধি-বিবেচনারও প্রকাশ ঘটায়। আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করলে তা আপনার সচেতনতা এবং মার্জিত রুচির পরিচয়ও বহন করে।
সময়ের প্রয়োজনে সবার হাতেই স্মার্টফোন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার অন্যের বিরক্তি-ভোগান্তির কারণ হতে পারে। আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয় সেজন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন
বাসে-ট্রেনে মোবাইল ফোনে দীর্ঘ আলাপ নয়
অনেকে বাস-ট্রেন-মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহনে মোবাইল ফোনে লম্বা সময় ধরে কথা বলেন। কথা বলার সময় এসব যানবাহনে অনেকে বেশ উচ্চস্বরে কথা বলেন। এসব আপনার পাশের যাত্রীর বিরক্তির কারণ হয়। সহযাত্রীরা মুখে না বললেও আপনার নিজের থেকেই বুঝে নেওয়া উচিৎ জনপরিসরে স্মার্টফোনের এমন অপব্যবহার আপনাকে অন্যের কাছে যথেষ্ট বিরক্তিকর হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাই বাসে-ট্রেনে অতি জরুরি না হলে ফোনে আলাপ সংক্ষিপ্ত করুন, কণ্ঠস্বর নিচু রাখুন।
যত্রতত্র লাউডস্পিকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার পরিহার করুন
আপনি হয়তো সময় পেলেই মোবাইল ফোনে গান শোনেন, ওয়াজ শোনেন, ফেসবুক-ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। বাসে-ট্রেনে কিংবা অন্য যেকোনো জনপরিবহন, জনপরিসরে মোবাইলে উচ্চস্বরে বা লাউডস্পিকারে এসব উপভোগ না করাই আপনার সুরুচির পরিচায়ক। উচ্চস্বরে আপনার যা শুনতে দেখতে ভালো লাগছে তা অন্যের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে। বিশেষ করে নৈশকালীন ভ্রমণে অবশ্যই নিজের মোবাইল ফোনটিকে লাউডস্পিকারে রেখে অন্যের বিরক্তির কারণ হবেন না।
সঙ্গে রাখুন এয়ারফোন-হেডফোন-এয়ারবাড
মোবাইল ফোন এখন আর কেবল আর কথা বলার যন্ত্র নয়। এটা আসলে আমাদের প্রতিদিনের তথ্য-বিনোদনে উৎস। অতএব জনপরিবহনে অবশ্যই আপনি আপনার পছন্দের কিছু মোবাইলফোনে দেখতে-শুনতেই পারেন। তবে এজন্য অবশ্যই আপনাকে সঙ্গে রাখতে হবে এয়ারফোন, এয়ারবাড অথবা হেডফোন। এগুলো ব্যবহার করে ইচ্ছেমতো শুনে যান-দেখে যান আপনার পছন্দের কনটেন্ট। মনে রাখবেন জনপরিসরে মোবাইলফোনে উচ্চস্বরে আপনার বিনোদন অন্যের বিরক্তি-ভোগান্তি কিংবা অস্বস্তির কারণ যেন না হয়।
অফিসে মোবাইল ফোন ব্যবহার
অফিসে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হতে হবে। কারণ অফিস হলো কাজের জায়গা। সেখানে যদি মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত কথা বলা হয় তাহলে আপনার কাজের ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হতে পারে। আবার আপনার পাশের সহকর্মীও বিরক্ত হতে পারে।তাছাড়া অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও এ ব্যাপারে দরকার বাড়তি সতর্কতা।তাই মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগত কথাগুলো বাড়িতেই সেরে আসা ভালো।
বাইরে মোবাইল ফোনে কথা হবে মার্জিত
আপনি রাস্তায়, যানবাহনে বা অফিসে যেখানেই থাকুন, হতে পারে গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড, স্ত্রীর বা স্বামীর কল। তার সঙ্গে অতি মাত্রায় ব্যক্তিগত কথা না বলে, মার্জিত ভাষায় অল্পতেই জরুরি কথা সারুন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্ত্রী বা বন্ধুর সঙ্গে চিৎকার, চেঁচামেচি করেন, বন্ধুকে সবার সামনে ঠাট্টার ছলে অশ্লীল ভাষায় গালিও দেন। এরকম করা থেকে বিরত থাকুন।
মোবাইল ফোনে কী দেখছেন কোথায় দেখছেন বিবেচনা করুন
ইন্টারনেট এক বিশাল জগত। এর বড় একটি অংশই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইউটিউব। এই বিশাল ইন্টারনেট দুনিয়ায় সবই যে জনপরিসরে সবার সামনে দেখার উপযোগী তা নয়। বিশেষ করে আপনি যখন কোনো গণপরিবহনে বা জনপরিসরে তখন মোবাইল ফোনে কী দেখছেন তা বিবেচনায় রাখুন। এসব জায়গায় মোবাইলফোনে আপত্তিকর, বীভৎস কিছু দেখা থেকে বিরত থাকুন। পাশের যাত্রীটি বা আশপাশের মানুষ যেন অস্বস্তিতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সবশেষে, অবশ্যই মোবাইল ফোন ব্যবহারের স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় রাখুন, স্মার্টফোন ব্যবহারে স্মার্টনেসটা আসলে এখানেই।