সিসিইউতে ২ ঘণ্টা থাকার পর আবার কেবিনে খালেদা জিয়া

শ্বাসকষ্ট হওয়ায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার রাতে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা সিসিইউতে রাখার পর আবার তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর চেয়ারপারসন শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে রাখার পর শ্বাসকষ্ট কমে আসে। তখন আবার তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাকে রাখা হয়েছে।’ 

গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার যকৃতে ‘ট্র্যান্সজাগুলার ইন্ট্রাহেপেটিক পোরটোসিসটেমিক শান্ট (টিপস)’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই রক্তনালীর মধ্যে একটি নতুন সংযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয় সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন এই অস্ত্রোপচারের ফলে লিভার সিরোসিসজনিত জটিলতা কিছুটা উপশম হবে। তবে অস্ত্রোপচারের পর এ নিয়ে দুইবার খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হলো। 

গত ৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। এর আগে গত ১২ জুন তিনি এই হাসপাতালে এসেছিলেন। ওই সময় পাঁচ দিন তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়েছিল।

৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভারের জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে। 

কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকবার নানা অসুস্থতা নিয়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ওই সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।