যুদ্ধের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে ইউক্রেনীয় যুবকরা

যুদ্ধ শুরুর পর কমপক্ষে ২০ হাজার ইউক্রেনীয় যুবক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। বিবিসি বলছে, এই যুবকদের কেউ শীতল নদী সাঁতরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ রাতের অন্ধকারে গাঢাকা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন, কেউ আবার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে যুদ্ধ না গিয়ে দেশেই এখানে ওখানে স্থানবদল করে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, যুদ্ধ শুরুর পরই ১৮ থেকে ৬০ বয়সীদের দেশ ত্যাগে বিধিনিষেধ জাড়ি করে ইউক্রেন সরকার। ফলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে চাওয়া ইউক্রেনীয় যুবকরা সাঁতরে সমুদ্র পাড়ি, হেঁটে হেঁটে পালিয়ে বা মিথ্যা অজুহাতে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেন। কিছু কিছু সফল হলেও, অনেককেই মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়।

বিপজ্জনক তিসা নদী সাঁতরে পারি দিয়ে মলদোভায় আশ্রয় নিয়েছেন এরিক নামের তরুণ এক সংগীত শিল্পী। তবে সবাই তার মতো ইউক্রেনীয় সেনাকে ফাঁকি দিতে পারেনি।

বিবিসি জানায়, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের অধিক ইউক্রেনীয় পালানোর চেষ্টা করে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছিল। আর, ২০২২ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার জন পুরুষ অবৈধভাবে প্রতিবেশী রোমানিয়া, মলদোভা, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া থেকে অবৈধ সীমান্ত ক্রসিংয়ের তথ্য সংগ্রহ করেছে বিবিসি।

তবে ইউক্রেন সরকারের এক প্রতিনিধি ফেদির ভেনিস্লাভস্কি বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, যারা পালিয়ে গেছে বা যেতে চাচ্ছে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এই সংখ্যা যুদ্ধে কোন প্রভাব ফেলেনি। তিনি বলেন,’আমি নিশ্চিত যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ৯৯ শতাংশ ইউক্রেনীয় তাদের জীবন দিতে প্রস্তুত।’