১ লাখ ৩০ হাজার দর্শককে চুপ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার

দর্শক ধারণ ক্ষমতায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। এই মাঠেই আগামীকাল বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, এদিন গ্যালারি পুরোটাই যে ঠাসা থাকবে ভারতীয় সমর্থকে। হইহুল্লোড়ে তারা মাতিয়ে রাখবে স্বাগতিকদের। বিশাল এই দর্শক গোষ্ঠীকে চুপ করিয়ে দেওয়ার মজাটা নিতে চায় অস্ট্রেলিয়া।

ভারতের এই স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসে খেলা দেখতে পারেন ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক। আগের স্থাপনা ভেঙে সংস্কার করে ২০২১ সালে নতুন যাত্রা শুরুর পর আসন সংখ্যা বেড়ে এই উচ্চতায় পৌঁছে যায়। যদিও এখনও পর্যন্ত গ্যালারি পুরোপুরি ভরেনি কোনো ম্যাচে। তবে যতটুকু হয়েছে, তাতেই রেকর্ডে দুই দফায় নাম উঠে গেছে এই মাঠের।

২০২২  সালে আইপিএলের ফাইনালে এই মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস ও ঘরের দল গুজরাট টাইটান্স। গুজরাটের শিরোপা জয়ের সেই ম্যাচে মাঠে ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৬ দর্শক। সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিতির টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হিসেবে তা জায়গা পেয়ে গেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকডর্সে।

গত মার্চেই আরেক দফায় রেকর্ড বইয়ে উঠে যায় এই স্টেডিয়ামের নাম। ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টের প্রথম দিনে মাঠে ছিলেন ১ লাখ দর্শক। ২০১৩ অ্যাশেজে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বক্সিং ডেতে ৯১ হাজার ৯২ দর্শক ছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচে আগের রেকর্ড। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারি পুরোপুরি ভরে উঠবে বলেই আশা করছেন আয়োজকরা।

সম্ভাব্য ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শকের মধ্যে কতজন অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক থাকতে পারে? ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অনুমান, সংখ্যাটা বড়জোর হতে পারে হাজার দুয়েক, 'আমরা জানি, গ্যালারি একদম ঠাসা থাকবে। ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শক ভারতকেই সমর্থন করবেন। ব্যাপারটা দারুণ। তারা এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলছে, এখনও অপরাজিত। তবে আমরা জানি, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে আমরা ওদেরকে ভালোই নাড়িয়ে দিতে পারব। গত কয়েক বছরে ওদের সঙ্গে আমরা নিয়মিতই খেলেছি এবং সাফল্য পেয়েছি। সব মিলিয়েই দারুণ একটি ফাইনালের আবহ গড়ে উঠছে।'

অপরিচিত কন্ডিশনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দর্শকদের চাপ থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর। সম্ভাব্য বিরুদ্ধ পরিস্থিতি আন্দাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না কামিন্সের। তবে কঠিন এই চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করে ভারতীয় সমর্থকদের চুপ করানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া।

কামিন্স বললেন সেই কথাই, 'আমার মনে হয়, এটাকে (দর্শকের চ্যালেঞ্জ) আলিঙ্গন করেই নিতে হবে। দর্শক সমর্থন অবশ্যই ভীষণরকমের একতরফা থাকবে। বিশাল সংখ্যক দর্শককে চুপ করিয়ে দিতে পারার চেয়ে তৃপ্তিদায়ক কিছু খেলাধুলায় আর নেই। আগামীকাল (রবিবার) এটিই আমাদের লক্ষ্য।'