স্থিতিশীলতার জন্য চাই শুদ্ধ নির্বাচন

আলী ইমাম মজুমদার নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে সংলাপের কথা বলছেন অনেকে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন এই জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী

দেশ রূপান্তর : একদিকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর অনড় অবস্থান, অন্যদিকে সংলাপের চাপের মধ্যেই ইসি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করল। সার্বিকভাবে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আলী ইমাম মজুমদার : তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচন সামনে রেখে মানুষের যেভাবে এটা নিয়ে উল্লসিত হওয়ার কথা ছিল আমি তেমনটা দেখছি না। একটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। বরং মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল একতরফা নির্বাচন করার আরেকটা সুযোগ পেল। এজন্য ক্ষমতাসীনদের অনেকটা ভারমুক্ত মনে হচ্ছে। কিন্তু ইন জেনারেল, আমরা যেটা ভাবি আর কি, নির্বাচনের মাধ্যমে একটা দেশে নতুন সরকার আসবে, হতে পারে আগের সরকারই নতুন ভাবে ফিরে এলো। এতে কোনো অসুবিধা নেই, কে আসবে সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু জনগণের সমর্থন নিয়ে যদি আসে তাহলে তারা জনগণের প্রত্যাশার প্রতি অধিকতর সচেতন থাকেন এবং অধিকতর নজরদারিতে থাকেন। বর্তমান যে অস্থিরতা, সেটা একটা ভালো নির্বাচন হলে কেটে যেত। জনগণ কাদের চায়, সেটা ঠিক হয়ে যেত। বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরই যদি জনগণ চায়, বিরোধীদেরও সেটা মেনে নিতে হবে। বিরোধীরা মুখে যাই বলুক না কেন, তেমন নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনরাই জিতলে তারাও মেনে নিত। আগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোও মেনে নিতে হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : রাজনৈতিক সমঝোতার কথা তো আপনারা বলে আসছেনই। কিন্তু দেশের বড় তিন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন নিয়ে শর্তহীন সংলাপে বসার মার্কিন চিঠির পরদিনই যে ইসি তফসিল ঘোষণা করল। যেখানে ধারণা করা হচ্ছিল আরও কয়েকদিন পর এই ঘোষণা আসবে। এখানে কি কোনো তাড়াহুড়া দেখতে পান?

আলী ইমাম মজুমদার : না, আমি মনে করি না যে তারা কারোর দ্বারা তেমন প্রভাবিত হয়েছেন। তবে তফসিল ঘোষণার সময়টা তারা যথাযথভাবে নেননি। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার যে ভাষণ দিয়েছে জাতির উদ্দেশে, সেখানেও তিনি কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অবস্থা যে অস্থিতিশীল সেই ইঙ্গিত তার ভাষায় দিয়েছেন। ভাষণে সিইসি আশঙ্কা প্রকাশ করে চলমান সংকট কাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন। এখানে যদি বোঝাপড়া, সমঝোতা থাকলে, অথবা পরিস্থিতি ভালো থাকলে তো তার এ কথা বলা লাগে না। তো এই অসম্পূর্ণ পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেন।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচন কমিশন কি আস্থা অর্জনে যথেষ্ট তৎপর ছিল?

আলী ইমাম মজুমদার : শুধু তফসিল ঘোষণা না, আমি সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করব। বর্তমান ইসি তো দুই বছর সময় পেয়েছে। যেটা সবার স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে নির্বাচনে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের। আপনি যখন কোনো খেলায় অংশ নেবেন বা দল নিয়ে যাবেন, আপনার প্রত্যাশা থাকবে যে বা যিনি রেফারি কিংবা আম্পায়ারিং করবেন তিনি যে কেবল নিরপেক্ষ হবেন তাই-ই না, তিনি তার সিদ্ধান্ত মানানোর ক্ষমতাও রাখবেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে বর্তমানে মাঠে যে বিরোধী দলগুলো আছে তারা এই আস্থাটা রাখতে পারছে না। এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোকে আস্থার জায়গায় আনা যায়নি। এই কমিশন তার দুই বছর সময়কালে তাদের সেই আস্থার জায়গায় আনতে পারেনি যে নির্বাচনে অংশ নিলে বিরোধীরা ফেয়ার প্লের সুযোগ পাবে। ২০১৮-তে যেমন তারা অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচন কিন্তু অংশগ্রহণমূলক ছিল। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক জনশ্রুতি আছে যে ভোটার না এমন অন্য কেউ অধিকাংশ ভোট দিয়ে গেছে। এখন ১৬ আনা ভোট না দিক অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট যদি অন্যরা দেয়, যেখানে ভোটকেন্দ্রেও ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল। বিশেষ করে তখন বিরোধী দলের যেসব বড় বড় নেতা ছিলেন তারা কিন্তু ভোটের আগেই অভিযোগ করছিলেন যে তাদের বাড়ি থেকে বেরই হতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কথা প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ সাহেব বলেছিলেন এবং মেজর হাফিজ কয়েকদিন আগেও ওই নির্বাচন নিয়ে একই অভিযোগ জানিয়েছেন। এ জাতীয় অভিযোগ আরও বেশ কয়েকজন করেছিলেন। আমি উত্তরাতে বসবাস করি, আমার ঘরের কাছেই গাজীপুর জেলা। এখানে আমরা যেটা শুনেছি এবং দেখেছি ও যেটা পত্রপত্রিকায়ও এসেছে, বিশেষ করে পোলিং এজেন্টদের কথা যদি ধরেন। সরকারের বিপক্ষ দলের যারা পোলিং এজেন্ট ছিল, তারা এবং বিরোধীদের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় তারা কেউ মাঠে থাকতে পারেনি। এখন নির্বাচনে আপনার পক্ষে কেবল সমর্থক থাকলেই তো হবে না, সমর্থকদের সংগঠিত করা ছাড়াও সংগঠন বা দলের কিছু কাজ থাকে, তাদের কিছু ব্যাপার আছে। তো সেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় যারা ভূমিকা রাখবেন তাদের কাউকে কাউকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা কাউকে কাউকে জেলাছাড়া করা হয়েছে। বিরোধী দল ভোটকেন্দ্রে এজেন্টও দিতে পারেনি।

দেশ রূপান্তর : আপনার কথা অনুযায়ী পরিস্থিতি তো এখনো তেমন বদলায়নি। অংশগ্রহণমূলক ভোটের পরিবেশ তো প্রশ্নবিদ্ধ...।

আলী ইমাম মজুমদার : সেটা তারা এখনো করতে পারেনি। এটা কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যেই প্রকাশ পেয়েছে। এখানে নির্বাচন কমিশনের যে অবস্থান তাতে দেখা গেছে ক্ষেত্র বিশেষে তারা সদিচ্ছা দেখানোর চেষ্টা করেছে। যেমন, গাইবান্ধা উপনির্বাচন। সেখানে তারা সিসিটিভির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তারা ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পেয়ে ওই নির্বাচনটা বাতিল করে, যা জনগণের মধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। তো ওই নির্বাচন বাতিল করে কমিশন একটা তদন্ত কমিটিও করে। কমিটি দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং অনিয়মের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রায় ১০০ অফিশিয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কমিটি।

দেশ রূপান্তর : গাইবান্ধা উপনির্বাচনে অভিযুক্তরা যে কোনো শাস্তি পেয়েছেন তেমন খবর তো আমরা জানি না।

আলী ইমাম মজুমদার : আমার কথা তো শেষ হয়নি। আমি বলতে চাচ্ছি যে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দেখা গেল যে প্রায় ১০০ লোক ওই উপনির্বাচনে অনিয়মের জন্য দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে কমিশন নিজেরাও ব্যবস্থা নিতে পারতেন। তবে কমিশন নিজেরা ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারকে জানিয়েছে। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবং নির্বাচন কমিশন ব্যাপারটা নিয়ে যদি সোচ্চার হতো তাহলে জনগণের নজরে আসত এবং বুঝতো যে কমিশনের কথা সরকার আমলে নিচ্ছে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের কথা আমলে নিতে সরকার সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। এছাড়া অতি সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে উপনির্বাচন হলো, উভয় জায়গাতেই দিনের বেলা ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ এলো। এখানে মনে রাখতে হবে সব অভিযোগ তো আর আসে না, যে দুই-তিনটি কেন্দ্র নজরদারিতে থাকে সেখান থেকেই অভিযোগ আসে। তো কমিশন সেই দুই/তিনটি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে বাকি কেন্দ্রগুলোর ভিত্তিতেই ফলাফল ঘোষণা করল। এটা করা যায় অবশ্য, কারণ তিনটা কেন্দ্র বন্ধ থাকলেও বাকিগুলোতে যদি মেজরিটি ভোট কাস্ট হয়ে থাকে, তার ভিত্তিতে সে ফলাফল ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাকি কেন্দ্রগুলোতে কী হয়েছে, তার কোনো খোঁজখবর না নিয়েই তারা কীভাবে ফল ঘোষণা দিয়ে কাউকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারে? এখানে নির্বাচন কমিশনের সামর্থ্য সম্পর্কে মাঠের যারা বিরোধী দল, তারা আস্থাশীল হতে পারছে না।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে কী হবে বলে মনে করেন?

আলী ইমাম মজুমদার : সঠিক সংখ্যা মনে পড়ছে না, তবে আমাদের দেশে চল্লিশটার কাছাকাছি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে। তো প্রধান দুইটা দলকে আমরা সক্রিয় অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি দীর্ঘদিন ধরে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। উভয় দলই বিভিন্ন সময় দেশ শাসন করেছে। এই দুই দলের একটি ও তাদের জোটসঙ্গীরা নির্বাচনে অংশ না নিলে জনগণের একটা বিরাট অংশ হতাশ হবে। এর প্রতিফলনও ভোটকেন্দ্রে পড়ার কথা। মানে ভালো প্রতিপক্ষ যদি মাঠে না থাকে দর্শক আগ্রহ পাবে কেন! স্বাভাবিকভাবেই এখানে যদি কৃত্রিম কোনো কিছু না ঘটে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে কেন্দ্রে ভোটারের সমাগম হবে বলে আমার মনে হয় না। আপনি বলতে পারেন যে আইনে কতজন ভোটারের উপস্থিতি লাগবে তা বলা নেই। এখন আইনের প্রয়োগ তো রাজনীতি, আবার জনগণের অংশগ্রহণ দিয়েই রাজনীতি পরিচালিত হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যে কথা উঠেছিল। আর গতবারের, মানে ২০১৮ সালের ভোট তো অন্যভাবে হয়ে গেল, যা আগেই বলেছি। এখন নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ না থাকলে সেটা রাজনৈতিকভাবে অশুদ্ধ। আর রাজনৈতিকভাবে অশুদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে এটা না হলে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীলই থেকে যাবে।    

দেশ রূপান্তর : বিএনপি বলছে সরকারের পদত্যাগের কথা, আবার সরকারি দল বলছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা। দুই দল যার যার শর্তে অনড়। আর যে শর্তহীন সংলাপের কথা উঠেছে, সেটা কি সম্ভব? আওয়ামী লীগ অবশ্য বলছে অর্থপূর্ণ সংলাপের জন্য যথেষ্ট সময় নেই। এ পরিস্থিতিতে সংলাপ কি হবে বলে মনে করেন?

আলী ইমাম মজুমদার : আদৌ সংলাপ হবে কি না বা কী হবে, সেটা ফোরকাস্ট করা ইট ইজ টু আর্লি। তবে সংলাপ শর্তহীনই হওয়া উচিত। সামনে আরও সময় আছে। কিন্তু আমি যেটা দেখছি যে দুই দলই যার যার অবস্থানে অনড়, শুরু থেকেই। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দাবি অথবা রাজনৈতিক অবস্থান অনড় হতে পারে না। রাজনীতি একটা পরিবর্তনশীল ব্যাপার। এটা অ্যাডজাস্টমেন্ট আর কম্প্রোমাইজের একটা আর্ট। আর বাস্তবতাও সদা পরিবর্তনশীল। এখানে মাঠে বিরোধী দলগুলো যেভাবে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে, আমি মনে করি এর মধ্যেও নেগোশিয়েট করা যায়। এর সুযোগ আছে এবং উচিত। আবার সরকার যেটা বলছে, এখানে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন হবে, এর বিরোধিতা করা যাবে না। সরকারের এই অবস্থানও ঠিক না। এটা স্মরণে রাখা উচিত যে সংবিধান সংশোধনের দাবিও কিন্তু সাংবিধানিক। সংবিধানের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের বিধান আছে। তো এটা সংশোধনের যদি দাবি করা হয়, সে দাবি তো সাংবিধানিক। সুতরাং দুই দলের এই অনড় অবস্থান জাতিকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

দেশ রূপান্তর : ২০০৬-এ একবার তফসিল ঘোষণার পরও সেটা বাতিল করা হয়। পরে এক/এগারোর সরকার আসে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুসারে ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়। এবার কি তেমন কিছুর সম্ভাবনা দেখছেন?

আলী ইমাম মজুমদার : না, তখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতি মেলানো যাবে না। পরিস্থিতি সদা পরিবর্তনশীল। তখন যে বাস্তবতা ছিল, সেটা তখনকার বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক ছিল। বর্তমান বাস্তবতা যেটা আমি দেখতে পাচ্ছি যে দুই দলই একটা অনড় অবস্থানে আছে। সংলাপের জন্য পরিবেশ তৈরির জন্য প্রথমত সরকার বিরোধী দল যেটা তারা কেবল একটা দাবিই করে যাচ্ছে, যেখানে নেগোশিয়েশনের কোনো আলামত নেই। অন্যদিকে সরকারের তরফ থেকেও সংলাপে বসার মতো বিরোধীদলীয় নেতা যারা কারাগারে আছেন তাদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনো ব্যাবস্থা নিতে দেখছি না। বরং মনে হচ্ছে, তাদের এভাবে জেলে রেখে বিরোধী দলকে অপ্রস্তুত রেখে আমরা নির্বাচন করে ফেলব সরকার এমনই ভাবছে। এটা খুবই দুঃখজনক। মনে হচ্ছে এই দুই রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের দেশের জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে।