চামচিকা থেকে রোবট
চামচিকার প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল মূলত নির্ভর করে, এদের চমৎকার প্রাকৃতিক শিকার ধরা ও অভিযোজন ক্ষমতার ওপর। এরা অতি-উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে এবং তা চারপাশের বস্তুতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসার সময় (প্রতিধ্বনি) শোনে। এই কৌশল ব্যবহার করে, পুরোপুরি অন্ধকারেও পথ চলতে পারে এবং নিখুঁতভাবে পোকামাকড়ের অবস্থান নির্ণয় করতে পারে চামচিকা। উড়ন্ত অবস্থায় এরা নিজস্ব গতির কারণে সৃষ্ট শব্দের পিচ (Doppler-shift) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এরা খুব দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। কোনো প্রতিবন্ধকতা বা শিকারের উপস্থিতি টের পেলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ওড়ার গতিপথ ও কৌশলে পরিবর্তন আনে। প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তার কারণে বিজ্ঞানীরা চামচিকার ইকোলোকেশন সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করে, উন্নত প্রযুক্তির রোবট তৈরি করছেন। চামচিকা সাধারণত পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যথেষ্ট সহায়ক। চামচিকা থেকে সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকি কম হলেও, এদের মল বা অর্ধেক খাওয়া ফল থেকে এলার্জি বা রোগ ছড়াতে পারে। একটি চামচিকার আয়ু সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছর। তবে অনুকূল পরিবেশে বা কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে এরা সর্বোচ্চ ১১ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।