ব্রেন স্ট্রোক কী, কেন হয়?

স্ট্রোক বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম, যা যেকোনও বয়সের মানুষের হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ১৫ মিলিয়ন মানুষ ব্রেন স্ট্রোকের শিকার হয়। এর মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ মারা যায়, আর ৫০ লাখের বেশি মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হার্ট অ্যাটাকে হার্টে রক্ত ​​সরবরাহকারী রক্তনালীতে জমাট বাঁধে এবং স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেকের মৃত্যু হয়। আবার কেউ কেউ এর কারণে পঙ্গুও হয়ে যান। স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরনের হয়। প্রথমটি হল ইস্কেমিক স্ট্রোক এবং দ্বিতীয়টি হল হেমোরেজিক স্ট্রোক। ইস্কেমিক স্ট্রোকে, জমাট বাঁধার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহকারী রক্তনালীগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। হেমোরেজিক স্ট্রোকে, অতিরিক্ত রক্ত ​​প্রবাহের কারণে রক্তনালী ফেটে যায়।ব্রেন স্ট্রোক কী, কেন হয়?

চিকিৎসকরা বলেছেন, ৫০-৫৫ বছরের বয়সীদের ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি, তবে বর্তমানে অল্প বয়সীরাও এর শিকার হচ্ছেন। বর্তমান যুগে মানুষ অতিরিক্ত মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের অবনতি ঘটেছে, যার কারণে তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ছে। সাধারণত অতিরিক্ত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে ব্রেন স্ট্রোক হয়। অনেক সময়, হৃদপিন্ডের অংশে জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। যেসব তরুণ-তরুণী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

যারা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রেও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি সমস্যা কারণে মানুষ ঘুমানোর সময় জোরে জোরে নাক ডাকে এবং ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না। অবিলম্বে তাদের উচিত একজন পালমোনোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা। অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপানও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্রেন স্ট্রোকের সময় শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ব্যক্তির দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করে। স্ট্রোকের কারণে, কথা বলতেও অসুবিধা হয় এবং কখনও কখনও তাদের মুখ বেঁকে যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থাও স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, তীব্র মাথাব্যথা এবং বমিও এর লক্ষণ হতে পারে। তাই ব্রেন স্ট্রোকের পর রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁর চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেই মানুষটি মারাও যেতে পারেন। অথবা শরীরের কোনও অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোক যাতে না হয় তার আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ধূমপান ও মদ্যমান করা ছেড়ে দিতে হবে। হার্টের সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে। কোনওভাবেই অসতর্ক হলে চলবে না, সবটা মেনে চলতে হবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এ ছাড়াও যদি স্ট্রোকের কোনও লক্ষণ দেখা দেয় তখন সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।