কিশোরগঞ্জের ভৈরবে খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ১০টিরও বেশি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুরের দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে গেলে রাশেদ মিয়া ও আমির হোসেন নামে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনা পারভীন জানান, ২৪ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুই মাস আগে স্থানীয় সরকারের খাল খনন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার কোদালকাটি খালটি খননের কাজ পায় মেসার্স মমিনুল হক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভেকু দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রেজার দিয়ে খাল থেকে বালু উত্তোলন করে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে খাল খননে বাধা দেওয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শাহজাহান মিয়া।
অন্যদিকে সরকারের খাল খনন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমন যুক্তিতে গ্রামের অন্য একটি পক্ষ তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া। তার যুক্তি, শুকনো মৌসুমের কাজ বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় ভেকুর পরিবর্তে ড্রেজার ব্যবহার করছে ঠিকাদার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাল খননকাজ বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় শাহজাহান মেম্বারের অতি উৎসাহী সমর্থকরা ড্রেজিংয়ের কিছু পাইপ ভাঙচুরসহ ড্রেজার মালিক শরাফত উল্লাহকে মারধর করেন। এ নিয়ে বাবুল চেয়ারম্যান ও শাহজাহান মেম্বারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে গতকাল সকালে বাবুল চেয়ারম্যানের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ বিষয়ে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিপন ভূঁইয়া বলেন, ‘খাল খননকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান মিয়ার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় আমরা সালিশ-দরবারের মাধ্যমে মীমাংসার কথা বলি। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে আজ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।’
ভৈরব থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।’