আল শিফার পর গাজার আরেক হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১২

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা ধ্বংসের পর এবার উত্তর গাজার বৃহত্তম এবং একমাত্র ক্যান্সার চিকিৎসার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।

হাসপাতালটিতে ইতিমধ্যে ঘেরাও করে রেখেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। বোমা হামলায় হাসপাতাল কমপ্লেক্সে অন্তত বারোজন নিহত হয়েছে এবং দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক ও রোগীও রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বার্তাসংস্থা আল জাজিরা সোমবার এ তথ্য জানায়।

হাসপাতালটির মেডিকেল টিম আল জাজিরাকে জানিয়েছে যে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হাসপাতালটিতে রাতারাতি বোমা হামলা চালানো হয়েছিল।

আল শিফা হাসপাতালের ন্যায় ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালেও ইতিমধ্যে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। যার ফলে বোমা বর্ষণের মধ্যেও মোবাইলের আলোতে অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা।

আল জাজিরার গাজার প্রতিনিধি সাফওয়াত আল-কাহলুত হাসপাতাল্টির পরিস্থিতি দেখে বলছেন যে, মনে হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী আল-শিফা হাসপাতালে যা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি এই হাসপাতালে করতে চলেছে এবং ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালও দখল করবে।

এদিকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাসপাতালটির স্টাফ ও অন্যান্য সদস্যরা জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের কাছে জরুরী সাহায্যের জন্য আবেদন করছে কারণ ইসরায়েলি বাহিনী চারপাশ ঘেরাও করে রেখেছে ও বার বার বোমাবর্ষণ করছে।

উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় ১৫০ জন রোগী এবং প্রায় ১০০ জন চিকিৎসাকর্মী রয়েছে। এ ছাড়াও ইসরায়েলি বোমা হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনিও হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে।