বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ সালে এই সূচকে বাংলাদেশের ৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৬তম। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। আর অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে আছে ভুটান। বিশ্বের ১৫২টি দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্যাসেল অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইন্ডেক্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২২ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৪১তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে খারাপ অবস্থানে থাকা একমাত্র দেশ ভুটানের অবস্থান ৪৩তম। আর হাইতি বর্তমান বিশে^ মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ আরও ৫ ধাপ নিচে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ ছিল। ওই সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা ৩২তম, ভুটান ২৮তম, ও পাকিস্তান ছিল ২৭তম অবস্থানে। বছরের ব্যবধানে এই সূচকে পাকিস্তানের উন্নতি হয়েছে ৩৪ ধাপ। বর্তমানে দেশটি ৬১তম অবস্থানে রয়েছে। ৩০ ধাপ উন্নতির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬২তম। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো খারাপ অবস্থানে থাকা ভুটানও বছরের ব্যবধানে উন্নতি করেছে ১৫ ধাপ। দেশটির বর্তমান অবস্থান ৪৩তম।

কোনো দেশের পাঁচটি বিষয়ের উন্নতি ও অবনতির ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন দিচ্ছে ব্যাসেল অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইনডেক্স। এর মধ্যে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিপালনের জন্য ৬৫, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ৫ এবং ঘুষ ও দুর্নীতিসহ আর্থিক স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড, আইনগত ও রাজনৈতিক ঝুঁকির জন্য ১০ পয়েন্ট করে মোট ১০০ পয়েন্টে মার্কিং করে প্রতিষ্ঠানটি।

এই সূচক অনুযায়ী শীর্ষ অবস্থানে থাকা হাইতির পরেই অবস্থান চাঁদের। এরপরই তিনে অবস্থান করে নিয়েছে এশিয়ার দেশ মিয়ানমার ও চারে রয়েছে কঙ্গো। এ ছাড়া মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি কম থাকায় তালিকার সবশেষে অর্থাৎ ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড।

রিপোর্টে বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সূচকে উন্নয়নের কারণ হিসেবে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর মানোন্নয়নের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।