অভিনন্দন অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এবং ফাইনালে প্রায় অপ্রতিরোধ্য ভারতকে হারানোয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স। আমি আগেই বলেছিলাম, অস্ট্রেলিয়াকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না। তারা জানে কীভাবে জিততে হয়। তারা সেটি আবারও প্রমাণ করেছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।
টস গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আহমেদাবাদের পিচ সঠিকভাবে চিনতে পেরে কামিন্স ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। আসলে তারা গেল এক মাস ভারতের পারফরম্যান্স দেখে সঠিক পরিকল্পনাই করেছে। তারা দারুণ বোলিং করেছে এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেছে। কী দুর্দান্ত ক্যাচ ট্রাভিস হেডের। অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়রা পিচ এবং কন্ডিশন সম্পর্কে অবগত ছিল আইপিএল খেলার কারণে। ভারত ব্যাটিংয়ে ভুগেছে। আমি মনে করি পেস বোলিংয়ে গতির তারতম্যে ভুগেছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়ার প্রথার বিরুদ্ধে গেছে। তারা ক্রিকেটীয় যুক্তি দিয়ে ভেবেছে, বাস্তবতা এবং পিচ মূল্যায়ন করে। যখন আপনি বিকেলে আগে বোলিং করবেন এমন পিচে, সূর্যের তাপ পিচকে গরম করে তুলবে এবং ক্রমেই শুকনো হবে (পিচ)। ফলে প্রথম ভাগে বোলারদের জন্য তা যথেষ্ট। পরে ব্যাটিং করা কিছুটা সুবিধাজনক। আর ডিউ ফ্যাক্টর তো আছেই। ভারতের ব্যাটসম্যানরা ভুগছিল-স্ট্রোক খেলতে পছন্দ করা খেলোয়াড়রা বলের পেস পাচ্ছিল না। ভারতের দরকার ছিল বড় জুটি সেটি তারা করতে পারেনি।
পরে ব্যাট করাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ হয়েছে, বাউন্ডারি মারাও সহজ হয়েছে। কেননা বল ব্যাটে আসছিল। ফলাফল ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনের ১৯২ রানের জুটি। ৪৭ রানে ৩ উইকেট পড়ায় ভারতের একটা সুযোগ ছিল বটে, তবে সেটি তারা লুফে নিতে পারেনি। ওই সময় ভারতের আরও আক্রমণাত্মক হওয়া দরকার ছিল। কারণ অস্ট্রেলিয়াকে থামানোর একমাত্র উপায় ছিল উইকেট তুলে নেওয়া। ভারতীয় বোলাররা ফাইনালে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। তারা চাপে ছিল এবং ওই সময়ে পিচ ব্যাটসম্যানদের সহায়তা করেছে।
যদিও অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল জিতেছে, তবু আমি বলতে পারি ভারত এই টুর্নামেন্টের সেরা দল। আমার ক্রিকেট খেলা ও দেখার সময় মিলিয়ে বলছি এটি অন্যতম সেরা ওয়ানডে দল। শুধু একটি খারাপ দিনই তাদের ট্রফি থেকে দূরে রাখল। অপরদিকে শুরুতে হারার পরও অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টে ফিরে এসেছে এবং শেষটা করেছে ট্রফি জয়ের মাধ্যমে।
এখন আবারও চার বছরের অপেক্ষা ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য।