দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল ভারতের। টানা ৯টা ম্যাচ জেতার পর বিশ্বকাপের ফাইনালে এসে পরাজিত হলো আসরে সবচেয়ে ভালো খেলা দলটির। ফাইনালে বিরাট কোহলি এবং রাহুলের অর্ধশতরানকে ছাপিয়ে শতরান করে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দেন ট্রেভিস হেড। ভারতের এমন হারে ক্রিকেটারেরা যেমন বিমর্ষ ছিলেন, তেমনই দর্শকাসনে হাজির থাকা তাদের স্ত্রী-বান্ধবীরাও নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। চোখে হাত দিয়ে কোনো মতে কান্না সামলাতে দেখা যায় কোহলির স্ত্রী আনুশকা শর্মাকেও। পরে মাঠে নেমে ছলছল চোখে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি।
প্রিয়জন হোক বা বন্ধু-বান্ধব, পরস্পরের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো আলিঙ্গন বা জড়িয়ে ধরা। গবেষণা বলছে, আলিঙ্গন শুধুমাত্র আবেগ প্রকাশের মাধ্যমই নয়। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক থেকে এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে খুবই কার্যকর। আলিঙ্গন করলে মানসিক প্রশান্তি আসে। চলুন জেনে নিন, আলিঙ্গন করলে শরীরের আরও কী কী উপকার হয়।
লাভ হরমোন
গবেষণা বলছে, আলিঙ্গন বা জড়িয়ে ধরা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম। খুব কাছের কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করলে অক্সিটোসিন বা 'লাভ হরমোন' নিঃসৃত হয়। যার ফলে মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্ক শান্ত থাকে। প্রিয়জনের স্পর্শ আমাদের মনে প্রশান্তি আনে, নিরাপদ বোধ হয়। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
মানসিক চাপ কমায়
কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ, টেনশন, সংসারের চাপে সকলেই এখন কমবেশি জর্জরিত। অনেক সময়ে অজানা কারণেও উদ্বেগ বাড়ে। তাই সময় সুযোগ পেলেই প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরলে মন ভালো হয়ে যেতে পারে। এতে স্ট্রেস, উদ্বেগ কমে। আর স্ট্রেস লেভেল কম থাকলে ঘুম ভালো হয়, মনমেজাজ ভালো থাকে, এনার্জি বাড়ে, সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুস্থ থাকে। এমনকি ভয় কমাতেও সাহায্য করে আলিঙ্গন। আলিঙ্গনের মাধ্যমে আপনার সেরোটোনিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব হয়।
হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও আলিঙ্গনের তুলনা নেই। আলিঙ্গন করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, হৃদস্পন্দনের হারও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ব্যথা উপশম করে
জড়িয়ে ধরা অবস্থায় অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক ও শারীরিক ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। ফলে অনেকটাই স্বস্তি মেলে। অনেক সময় রোগীর মানসিক বা শারীরিক অস্বস্তি কমাতে স্পর্শ থেরাপির পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
শরীরে রোগ ক্ষমতা বাড়ায়
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে আলিঙ্গন। প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরলে ব্রেস্ট বোনের ওপর চাপ পড়ে, যা একটি মানসিকভাবে আমাদের সক্রিয় করে তোলে। এটি প্লেক্সাস চক্রকে সক্রিয় করে, যা থাইমাস গ্রন্থির কার্যকারিতায় সাহায্য করে। এই গ্রন্থি শরীরে শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীর সুস্থ রাখে। সূত্র: বোল্ড স্কাই