৩১ মাস ধরে বয়স্ক ভাতার টাকা যাচ্ছে অন্যের নম্বরে

ফেনীর সোনাগাজীতে হোসনে আরা বেগম নামে এক ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার টাকা যাচ্ছে ফাতেমা বেগম নামে অন্য নারীর মোবাইল ব্যাংক নম্বরে। ৩১ মাস ধরে এ কান্ড হয়ে এলেও কিছুই জানে না উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ভাতার টাকা না পাওয়া বিধবা হোসনে আরা ভিক্ষা করে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সদর ইউনিয়নের চর খোয়াজ এলাকার মৃত শাহ আলমের স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের বয়স্ক ভাতার আবেদন ২০২১ সালে অনুমোদিত হয়। কয়েক দিন আগে হোসনে আরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন। চেয়ারম্যান তাকে সুপারিশসহ সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠান। সেখান থেকে জানানো হয় হোসনে আরা ২০২১ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোসনে আরার নামে সমাজসেবা বিভাগের বয়স্ক ভাতার কার্ডে যে মোবাইল নম্বরটি রয়েছে, সেটির মালিক উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পালগিরি গ্রামের ফাতেমা বেগম। তবে ফাতেমা বেগমের দাবি, তার নম্বরে কোনো টাকা আসে না। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। যদিও সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ফাতেমা বেগমের হাতে থাকা মোবাইল নম্বরে ৩১ মাস ধরে ভাতার টাকা গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক আহম্মদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বরসহ ডেটা এন্ট্রি করা হয়েছে। ইউপি কার্যালয় থেকে হয়তো ভুল নম্বর পাঠানো হয়েছে।’

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উম্মে রুমা বলেন, ‘গত মাসে সরকারিভাবে উপজেলার সব ইউপির সব ধরনের ভাতাভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে যাচাই-বাছাই ও সত্যতা নিশ্চিত করেন সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপরও এমন গুরুতর অনিয়ম তাদের চোখে ধরা পড়েনি। এর দায়ভার সমাজসেবা কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।’ ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে একজনের বয়স্ক ভাতার টাকা আরেকজনের নম্বরে চলে যাচ্ছে। কেউ জানে না, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রকৃত ব্যক্তি যেন ভাতা পান সেটা নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’