মারাকানা আর আনহেল ডি মারিয়া! নাম দুটি একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বলা ভালো, ডি মারিয়ার জীবনের সেরা মুহূর্তটা ব্রাজিলের এই মাঠে। মনের ক্যানভাসে এঁকে রাখার মতো একটা ছবি হতে পারে। এই মাঠে তার গোলেই যে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়েছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি পেয়েছিলেন প্রথমবার কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা। তাই রিও ডি জেনারিওর ফুটবল গ্রাউন্ড স্মৃতি থেকে ভুলার নয়।
স্মৃতিবহুল এই মারাকানায় জীবনের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন ডি মারিয়া। আর কখনও ফেরা হবে না এখানে। বিদায় বেলায় সতীর্থদের কাছ থেকে যোগ্য সম্মানটাই পেলেন। কাঁধে চড়িয়ে মাঠ থেকে তাকে নিয়ে গেলেন সবাই ড্রেসিং রুমে।
শেষ ম্যাচটাও তিনি জয় দিয়েই রাঙালেন। তবে এবার আর গোল পাননি। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলিস্তেরা। নিকোলাস ওতামেন্দির একমাত্র গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এদিন লিওনেল মেসি মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর খেলতে নামেন তিনি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার বদলী হিসেবেই নেমেছিলেন তিনি। নামার সময় মেসি তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটাও।
শেষ বাঁশি বাজার পর ডি মারিয়াকে কাঁধে তুলেন সতীর্থরা। তিনিও এই মাঠকে খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় জানান। এসময় তাকে ঘিরে সমবেত সুরে গেয়ে উঠেন ‘ফিদেও যাচ্ছে না, ফিদেও ছাড়ছে না।’ ডি মারিয়ার ডাক নাম ফিদেও। তাদের এই স্লোগানের কারণ, মারাকানায় ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ নয়।
আগামী কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন ডি মারিয়া। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসছে কোপার পরবর্তী আসর। সেখানেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন তিনি। তারপর তুলে রাখবেন বুটজোড়া। এই সময়ের মধ্যে মারাকানায় আর কোনো খেলা নেই আর্জেন্টিনার। তাই আজই শেষবার ডি মারিয়ার পায়ের চিহ্ন পড়ল মারাকানার বাটে।