ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা: ৬ বিচারপতি শুনবেন রিভিউয়ের শুনানি

বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন শুনবেন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সাড়ে ছয় বছরের বেশি সময় আগে আপিল বিভাগ এ মামলায় রায় দেন। এখন আপিল বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ছয়জন। রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন এই ছয়জনের বেঞ্চে শুনানি হতে পারে কি না সে বিষয়ে আট জ্যেষ্ঠ  আইনজীবীর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে এ আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও রিট আবেদনকারীদের পক্ষে মনজিল মোরসেদ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ছিল জাতীয় সংসদের কাছে। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। ১৯৭৭ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ন্যস্ত হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে এ অপসারণ ক্ষমতা ফের জাতীয় সংসদে ন্যস্ত হয়। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৯ নভেম্বর ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল দেন হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের একটি বৃহৎ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও অবৈধ বলে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে আপিল বিভাগের এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রিভিউয়ের শুনানি করতে বেশ কয়েকটি তারিখ ধার্যের পর গত ১৬ নভেম্বর বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। তবে, ছয়জন বিচারপতি এ বিষয়ে শুনতে পারেন কি না সে প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে আটজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতামত নেয় সর্বোচ্চ আদালত। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনসহ মতামত দেওয়া অপর আইনজীবীরা হলেন আজমালুল হোসেন কেসি, কামরুল হক সিদ্দিকী, প্রবীর নিয়োগী, মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মুরাদ রেজা, তানজিব-উল আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। আইনজীবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দিয়ে বলেন, ছয়জন বিচারপতি রিভিউয়ের এ আবেদন শুনতে পারবেন। এর ধারাবাহিকতায় এ আদেশ হলো।