গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শত শত বিঘা বনভূমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে বনের বড় বড় গজারি গাছ সমূলে কেটে সাফ করে সেখানে নানা ফল ও ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বনের স্থানীয় পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের সূর্যনারায়ণপুর বিটের অধীনে কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর উপজেলার ২৯টি মৌজায় বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে সূর্যনারায়ণপুর বিট কার্যালয় থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে কয়েক শত একরের সূর্যনারায়ণপুর গজারি বন। গ্রামের লোকজন তাদের বাড়ির আশপাশের বনের গজারি গাছ কেটে বছরের পর বছর নানা ফল ও ফসলের আবাদ করলেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের লোকজন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
সরেজমিনে সূর্যনারায়ণপুর দক্ষিণপাড়ায় সরকারি গজারি বন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সার্ভেয়ার কবির হোসেন বাচ্চু গজারি বন উজার করে বিশাল বাগানে কলা চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, বাচ্চুর দখলে সাত থেকে আট বিঘা বন রয়েছে। একই এলাকার আকবর পালোয়ানের দখলে তিন থেকে চার বিঘা এবং ফজলুল হক পালোয়ান, সিদ্দিক পালোয়ান, জাকির পালোয়ান ও আবুল শেখসহ বিভিন্ন জনের দখলে এক থেকে দেড় বিঘা করে বনের জমি রয়েছে।
সার্ভেয়ার কবির হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘আমার কলাবাগান দেখে স্থানীয় লোকজন হিংসা করে বিভিন্ন সময় বিট অফিসে অভিযোগ দেয়। আমার ও আমার ভাইদের দখলে বনের দেড় থেকে দুই বিঘা জমি আছে। দুই মাস আগে বনের লোকজন এসে মেপে ওই পরিমাণ জমি পেয়েছে। পরিমাণ কম হওয়ায় বন বিভাগ গাছের বাগান করতে চায়নি।’
বন বিভাগের লোক ও স্থানীয় লোকেদের সমন্বয়ে ৬৩ সদস্যের ‘সুফল’ নামে বনরক্ষা কমিটি রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এ কমিটি বনের দেখভাল করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তারা ওই দায়িত্বের ভয় দেখিয়ে দখলদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বন কর্মকর্তা জানান, এই বিটের বিপুল পরিমাণ জায়গা প্রভাবশালী মহল দখল করে নিয়েছে। এমনকি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে বিশাল বিশাল মার্কেট কিংবা পাঁচতলা পাকা বাড়ি পর্যন্ত কেউ কেউ তৈরি করেছেন। যারা কলাবাগান কিংবা মৌসুমি ফল ফসল আবাদ করছেন, তারা তুলনামূলক কম অপরাধ করছেন বলেই তিনি মনে করেন।
সূর্যনারায়ণপুর বিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কী পরিমাণ বনভূমি জনগণের দখলে রয়েছে তার জরিপ চলমান রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণে বনভূমি দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না।’
রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘জবরদখলের তালিকা হালনাগাদ ছিল না। জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে অচিরেই উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।’