শরীয়তপুর সদরের পশ্চিম আটপাড়া এলাকায় বিয়ের দাবিতে তিন দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী (১৮)। প্রেমিক বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিসহ আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের পশ্চিম আটপাড়া গ্রামের আতিকুল ইসলাম স্বাধীন সরদারের (২১) বাড়িতে অনশন করছেন ওই তরুণী। প্রেমিক স্বাধীন ওই গ্রামের কৃষক জুলহাস সরদারের ছেলে। স্বাধীন ঢাকার গুলিস্তানের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী।
অনশনরত তরুণীর ভাষ্যমতে, ৯ মাস ধরে স্বাধীনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি ওই তরুণীর পরিবারসহ প্রতিবেশীরাও জানে। বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করেছে স্বাধীন। ওই তরুণীর বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায়। গত ১৭ নভেম্বর ওই তরুণীর বিয়ের কথা ছিল। ১৬ নভেম্বর গায়ে হলুদের দিন ছিল। গায়ে হলুদের দিন সে প্রেমিক স্বাধীনকে তার বিয়ের বিষয়ে জানান। পরে স্বাধীন বিয়ের প্রলোভন দেখালে ওই দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে আসেন ওই তরুণী। কিন্তু স্বাধীনকে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের ডেমরা বোনের বাড়িতে চলে যান তিনি। পরে ২২ নভেম্বর গুলিস্তান কাপড়ের দোকানে স্বাধীনের সঙ্গে দেখা হয় ওই তরুণীর। প্রেমিকা রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যান স্বাধীন। তাই ওই দিন বিকেলে স্বাধীনের গ্রামের বাড়ি এসে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।
তরুণী জানান, স্বাধীন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। যেহেতু স্বাধীনকে তিনি ভালোবাসেন তাই কোনো উপায় না পেয়ে (২২ নভেম্বর) তার বাড়িতে এসে ওঠেন তিনি। বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিসহ আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান।
তবে ঘটনার পর থেকে প্রেমিক স্বাধীন ফোন বন্ধ করে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনের বাবা জুলহাস সরদার বলেন, আমার বাড়িতে যে মেয়ে এসেছে তার সঙ্গে আমার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি যদি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন তাহলে আমি ওই মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে মেনে নেব।
চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনের পরিবার আমাকে বিষয়টি জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আইনের আশ্রয় নেবে বলে আমাকে জানিয়েছেন।