ডিপফেকের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের লড়াই ঘোষণা

ভারতীয় অভিনেত্রী, ধনকুবের থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ডিপফেক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নকল অবয়ব) ভিডিওর শিকার হতে হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। আর তাতে সাড়া দিয়েছে মোদি সরকার। ডিপফেক মোকাবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বিধি জারি এবং একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবারই ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, ডিপফেক রুখতে কঠোর হচ্ছে সরকার। এরপর আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, সরকার একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করতে চলেছে যিনি এই ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন।  

তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি ওয়েবসাইট খুলতে চলেছে। সেখানে ইউজাররা তথ্য ও প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারবেন। ভুক্তভোগীদের মামলা দায়ের করতে সাহায্য করা হবে। এরই সঙ্গে চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যা শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি আইন মেনে যথাযথ ভাবে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। আর এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে সরকার। এই ধরনের ভিডিও বানালে বা ছড়ালে ১ লক্ষ টাকার জরিমানা গুনতে হবে।  

এর আগে গত বুধবার জি-২০ ভার্চুয়াল সামিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই এআই প্রযুক্তিকে উন্নত করা উচিত। এই প্রযুক্তি সকলের কাছে পৌঁছানো উচিত। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে এই প্রযুক্তি যেন সমাজের জন্য নিরাপদ হয়। বর্তমানে ডিপফেক একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’