উত্তেজনার সাক্ষী হতে প্রস্তুত ইতিহাদ

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সপ্তাহ ফুরিয়েছে। ইউরোপে ফিরছে ক্লাব ফুটবল। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উত্তাপ বাড়াতে মঞ্চ প্রস্তুত 'দ্য ম্যাচ' দিয়ে। আজ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নামবে লিভারপুল। এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগের এক বনাম দুইয়ের দ্বৈরথে।

কয়েক সপ্তাহ আগে আর্সেনাল ওপরে থাকলেও এখন টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থান নিজেদের করে নিয়েছে ইয়র্গেন ক্লপের দল। এক নম্বরে পেপ গার্দিওলার সিটিই। ১২ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল ও আর্সেনালের ২৭ পয়েন্ট, তবে গোলপার্থক্যে এগিয়ে লিভারপুল। জমজমাট প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম ৪ নম্বরে আছে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে। পাঁচে অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ২৫, অর্থাৎ লিগের প্রথম পাঁচ দলের মধ্যে পয়েন্টের ফারাক মাত্র তিন।

গত এক দশকে সিটি-লিভারপুল দ্বৈরথ রূপ নিয়েছে নতুন আঙ্গিকে। শেষ পাঁচ বছর হিসাব করলে ইউরোপের সেরা দ্বৈরথের তকমা অনায়াসেই দিয়ে দেওয়া যায় এ দুই ক্লাবকে। কৌশলী ফুটবল, তারকাদের হাট, উত্তেজনা, নাটক বিবেচনায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে তা। তিনবার লিগের শিরোপা দৌড়, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল মিলিয়ে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ ফুটবল ভক্তদের কখনো হতাশ করেনি।

দ্বৈরথ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব সামলে আসা দুই বিচক্ষণ কোচ গার্দিওয়ালা ও ক্লপের মধ্যেও। ক্লাব সমর্থকরাও কম যাবেন না বিনোদনের খোরাক জোগাতে। এ দুই ক্লাবের সেরা পাঁচটি দ্বৈরথ জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

২০১৪ সালের এপ্রিলে অ্যানফিল্ডে উত্তেজনার পারদ চূড়ায় তুলে মুখোমুখি হয় দুই ক্লাব। হাজারো সমর্থক লিভারপুলের বাসের সামনে দাঁড়িয়ে বরণ করে স্বাগতিকদের। টানা ৯ ম্যাচ জিতে আসা ব্রেন্ডন রজার্সের শিষ্যরা ২-০ গোলে এগিয়ে যান। দ্বিতীয়ার্ধে সিটিজেনসরা সমতা আনলেও ফিলিপ কৌতিনহোর গোলে জয় নিশ্চিত করে রেডরা। ওই মৌসুমের শেষদিকে হোঁচট খেয়ে সিটিকে এক রকম শিরোপা উপহার দিয়ে দেয় লিভারপুল। তাতেই শুরু হয় ইউরোপের সেরা দ্বৈরথগুলোর একটির।

পরের বছর জুলাইয়ে লিভারপুল থেকে ৬১ মিলিয়ন ডলারে রাহিম স্টার্লিংকে দলে ভিড়িয়ে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে দেয় সিটি। নভেম্বরে ইয়ুর্গেন ক্লপ দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় ইতিহাদে ঘরের মাঠে সিটিজেনদের ৪-১ গোলে হারিয়ে তাব লাগিয়ে দেয় লিভারপুল। সেই ঝটক আজও মনে থাকার কথা সিটির সব ভক্ত-সমর্থকের।

২০১৮ সালে গার্দিওয়ালার দ্বিতীয় মৌসুমে ফর্মের তুঙ্গে সময় পার করছিল সিটিজেনরা। প্রথম ২২ ম্যাচের ২০টিতেই জয় নিয়ে শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে তারা। আর্সেনালের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে মৌসুমে ম্যাচ না হারার রেকর্ড গড়াটাও মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার সেই সময়েই অ্যানফিল্ডে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে সিটিকে হারিয়ে দেয় লিভারপুল। গার্দিওয়ালাও বুঝে যান কে হতে যাচ্ছে তার আগামী দিনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

২০২২ সালের এপ্রিলে চার বছরে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছিল দুই ক্লাব ইতিহাদে তারা মুখোমুখি হয় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। হতাশ হতে হয়নি সমর্থকদের। অনবদ্য সেই ম্যাচ ড্র হয় ২-২ গোলে। মৌসুমের শেষ দিনে গিয়ে মাত্র এক পয়েন্ট ব্যবধানে লিভারপুলবে পিছে ফেলতে সমর্থ হয় সিটি।

আর এ বছরের এপ্রিলে শেষ দেখায় সালাহর গোলে এগিয়ে গিয়েও হালান্ডবিহীন সিটির দারুণ নৈপুণে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটিজেনরা। ৪৭ ম্যাচে ৪৯ গোল নিয়ে অবশ্য এই ম্যাচে মাঠে থাকবেন আর্লিং হালান্ড। আর একটি গোল করলেই অ্যান্ডি কোলের ছিল ৬৫ ম্যাচে কর রেকর্ড টপকে প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম ৫০ গোলের নজির গড়তে পারবেন হালান্ড। তবে নিখাদ বিনোদনে মেতে উঠতে এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবেন ফুটবল সমর্থকরা।