দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন ছিদ্র করে ডিজেল তেল চুরির ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে ৩ নম্বর ফতেজংপুর ইউনিয়নের চক ইসবপুর ফেরোশাডাঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ভারতের নিয়ন্ত্রণকক্ষের অটোমেটিক সেন্সরে পাইপ লাইন লিকেজের সংকেত বেজে উঠে। ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে ভিজা মাটি সরিয়ে দেখা যায় এক সেখানে একটি নতুন সকেট ও চিকন পাইপ লাগানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জমির মালিক, জমিতে সেচ দেওয়া শ্যালো মেশিনের মালিক, প্রতিষ্ঠানের দুইজন লাইনম্যানসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আটকরা হলেন— চিরিরবন্দরের উত্তর ভবানীপুর (ডাঙ্গারহাট) গ্রামের আলী উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৭), পাবর্তীপুরের সোনাপুকুর গ্রামের মাজুম আলীর ছেলে মানিক শাহ্ (৪৫), নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের সাশকান্দর গ্রামের তাবির উদ্দিনের ছেলে নজমুল হক (৬৫) ও একই গ্রামের ছলেমান বসু মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৮)।
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যবস্হাপক প্রবীর হিরা জানান, অটোমেটিক সেন্সরের মাধ্যমে শুক্রবার ভোর ৪টায় ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডে ধরা পড়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পাইপ লিকেজের ঘটনা। প্রথমে ভেবেছিলাম পাইপ লিকেজ হয়েছে। পরে ৫টার দিকে পাইপলাইন পথে অনুসন্ধানে ধরা পড়ে ছিদ্র তৈরি করে তেল চুরির ঘটনা।
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী টিপু সুলতান জানান, ভারতীয় ও দেশি প্রকৌশলরীরা যৌথভাবে পাইপলাইনের ছিদ্র করা অংশ মেরামত সম্পন্ন করেছেন। তবে চেষ্টা করা হলেও তেল চুরি করতে পারেনি। চলতি মাসে পাইপলাইনে সর্বশেষ চার হাজার লিটার ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে আরেক দফায় আবারও জ্বালানি আনা হবে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ জানান, চিহ্নিত স্থানে ছয় ফুট গর্ত খনন করে মূল পাইপলাইনে ফুটো তৈরি করে তাতে স্ক্রু যুক্ত চিকন পাইপ জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছিদ্রে পাইপ লাগিয়ে তেল চুরি করা হয়েছে।
পাইপলাইনে তেল চুরির ঘটনায় মামলা করেছেন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যবস্হাপক প্রবীর হিরা।
কৃষিনির্ভর উত্তরের জেলা সমূহে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে নৌ, সড়ক ও রেলপথের পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল ডিজেল আনতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আওতায় ভারতীয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে রেলওয়ে ওয়েল ডিপোতে রিসিভ স্টেশন স্হাপন করা হয়।
এজন্য ভারতের আসামের শিলিগুড়ির নূমালীগড় রিফাইনারি শোধনাগার থেকে পাবর্তীপুর রেলওয়ে ডিপো পর্যন্ত ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্হাপন করা হয়েছে। ওই পাইপলাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশে পড়েছে ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার এবং ভারত অংশে পড়েছে ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নোরেন্দ্র মোদি পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির উদ্বোধন করেন। গেল মার্চ মাস থেকে চলতে নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ৭ বার পাইপলাইনে জ্বালানি ডিজেল এসেছে ওয়েল ডিপোতে।