অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে খেলেছিলেন মাত্র ১৮ মিনিট। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই বাংলাদেশের হয়ে শুরু থেকে খেলেন শেখ মোরসালিন। এই এক ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে ১৭ বছরের এই তরুণ জায়গা করে নিয়েছেন এএফসির সেরা পারফরমারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। শনিবার এএফসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সেরা ৯ পারফরমারের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তার নাম। লেবাননের বিপক্ষে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার বাংলাদেশের হয়ে ৭২ মিনিটে অসাধারণ গোল করেই টটেনহ্যাম তারকা সন হিউং মিনের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বসুন্ধরা কিংস ফরোয়ার্ডের নাম।
শেষ দুই সপ্তাহে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বের দুটি ম্যাচ ডে’তে হয়েছে ৩৬ ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর সেরা ৯টি পারফরম্যান্স বেছে নিয়েছে এএফসি। যে তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়া তারকা সনের নাম রয়েছে সবার ওপরে। এর পরেই আছেন মোরসালিন। ছাড়া আরও আছেন কাতারের আলমোয়েজ আলি, ইরানের মেহেদি তারেমি, সৌদি আরবের সালেহ আল শেহরির মতো তারকা।
দক্ষিণ কোরিয়ার ৩১ বছর বয়সী অধিনায়ক সন হিউ মিন দ্বিতীয়পর্বের প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে একটি গোল করেছিলেন। এরপর চীনের বিপক্ষেও ৩-০ জয়ের ম্যাচে প্রথম দুই গোল ছিল এই তারকার। এছাড়া সতীর্থ জুং সিউ হুনকে দিয়ে শেষ গোলটিও করান তিনি। যে কারণে সেরা পারফরমারের তালিকায় প্রথমেই এসেছে তার নাম।
এরপরেই মোরসালিনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে এএফসি। ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকা লেবানন এগিয়ে গিয়েছিল ৬৭ মিনিটে। এর পাঁচ মিনিট পর এক লেবানিজের ভুল পাস পেয়ে খানিকটা এগিয়ে নিজের পছন্দের জায়গা থেকে ডানপায়ের জোরালো শট নেন ১৭ বছরের ফুটবলার। যা বাঁক খেয়ে লেবানিজ কিপার মোস্তফা মাতারকে সুযোগ না দিয়ে দূরের পোস্টে জড়ায়। এই গোলেই অনেক এগিয়ে থাকা লেবাননকে স্তব্ধ করে ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। চলতি বছর অভিষেক হওয়া মোরসালিন জুলাইয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর দুই ম্যাচে অসাধারণ দুই গোলে নজর কাড়েন মোরসালিন। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রীতি সিরিজে তার গোলে ঘরের মাঠে ১-১ ড্র করে বাংলাদেশ। সনের মতো তারকার সঙ্গে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়ায় বিস্ময়ে ভাষা হারানোর জোগাড় মোরসালিনের। গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে সনের খেলা দেখে বড় হয়েছি। এখন তার সঙ্গে আমার ছবি দেখে, তার পাশে নিজের নাম দেখে সত্যি বিস্মিত হয়েছি। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া, তিনি আমাকে এভাবে সম্মানিত করেছেন। এরকম ব্যাপারগুলো ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। আরও ভালো খেলে, ভালো ভালো গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।’
অথচ কিছুদিন আগেই তার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছিল। অবৈধ মদ বহন করে বিমানবন্দরে ধরা পড়ায় তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে তার ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। এর ফলে জাতীয় দলের হয়েও দুটি ম্যাচে তাকে রাখা হয়নি। পরে ক্লাব তাকে আর্থিক জরিমানা করলে জাতীয় দলেও ফিরে আসেন। প্রত্যাবর্তনটাকে রাঙিয়েছেন লেবাননের বিপক্ষে অসাধারণ গোলে। দুঃস্বপ্নময় সময়গুলো ভুলে গিয়ে সামনে তাকাতে চান মোরসালিন, ‘এখন আর সেই দিনগুলো মনে করতে চাই না। সব ভুলে চাই সামনে এগিয়ে যেতে। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। তবে সেই ভুল আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।’
মোরসালিনের পরে আছে জাপানের তরুণ ফরোয়ার্ড আয়াস ইয়ুদার নাম। মিয়ানমারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। এরপর সিরিয়ার বিপক্ষে করেন ২ গোল। কাতার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা আলমোয়েজ আলি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেন ৪ গোল। এরপর ভারতের বিপক্ষেও করেন ১ গোল। এরপর পর্যায়ক্রমে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাবখুত আলি, অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার, মালয়েশিয়ার ডিওন কুলস, ইরানের মেহদি তারেমি, সৌদি আরবের সালেহ আল সেহরির নাম।