মুখ বদলেই চলবে না

আওয়ামী লীগ পুরোদস্তুর নির্বাচনী দৌড়ে নেমে পড়েছে। গতকাল দলটি ২৯৮ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল এবং জোটের মধ্যে এ ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবু নিয়মানুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। একপক্ষীয় নির্বাচনী দৌড়ে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থিতায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। দলে প্রার্থী তালিকায় কিছু নতুন মুখও রয়েছে। তবুও অনেকে বলছেন, এই প্রক্রিয়ার নির্বাচনে গণতান্ত্রিক আচরণের কোনো চিহ্ন থাকবে না।

বাঙালির যত অর্জন, বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রায় সবই এসেছে তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে। সেই ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ’৬৬,’ ৬৮, ’৬৯, ’৭০, ’৭১ ও ’৯০ সালে মূলত তরুণরাই জ্বালিয়েছে দেশপ্রেমের মশাল। তাদের হাত ধরেই আমাদের যত অর্জন।

বর্তমানে তারুণ্যের জোয়ার আছড়ে পড়েছে। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার সঙ্গে রাজনৈতিক চিন্তাধারায় নিয়ে আসতে হবে আধুনিকতা। যদি হয় ‘উই আর সো ফাস্ট, বিকামিং ফাস্টার’ তাহলে বর্তমানে রাজনীতিতে আমাদের দেশে তরুণ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। এবারের মনোনয়ন তালিকা দেখে তেমনটিই মনে হলো। এ বিষয়ে রবিবার দেশ রূপান্তরে ‘নতুনে আস্থা পরিবর্তন অনেক’ প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্ব তখনই ঝলসে ওঠে, যখন তার মধ্যে দেখা যায় নিজেকে গড়ে তোলার এবং দেশকে অগ্রসর ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রেরণা। রাজনীতিতে শুদ্ধিতার প্রয়োজন রয়েছে যেমন, তেমনি নিজেকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করার দরকারও রয়েছে। রাজনীতিতে গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন এবং দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা অর্জনে এখন তরুণ নেতৃত্ব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমান হতে চায়। দেশের জন্য কিছু করতে চায়। সমাজ যখন রাজনৈতিকভাবে অসচেতন হয়, তখন তা রাষ্ট্রের জন্য কখনো শুভ হতে পারে না। তরুণদেরই এখন অন্যায়ের প্রতিবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করতে হবে।

সংস্কৃতির বিকাশ সাধন এবং উন্নয়ন স্থায়ী করতে হলে রাজনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। জর্জ বার্নার্ড শ’র একটা উক্তি আছে ‘নতুন কিছু করাই তরুণদের ধর্ম।’ এটা ধ্রুব সত্য, তরুণ মেধাবীরা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে যাবে। কল্যাণকর রাজনীতি চর্চায় তরুণরা নেতৃত্ব দিতে চায়। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন ও কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে হলে এবং রাজনীতিতে ইতিবাচক ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তরুণ নেতৃত্বের অংশ নেওয়া সবার আগে জরুরি। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

রাজনীতিতে নতুন মুখ সামনে নিয়ে আসা নতুন কিছু নয়। এর আগেও নতুন মুখ এসেছে। তবে বেশিরভাগই পরিবারের উত্তরসূরি। যে কারণে রাজনীতিতে তেমন কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। তবে এবার আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়নে এমন কিছু নতুন মুখ দেখা গেল নিঃসন্দেহে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়। তবে রাজনীতিতে জনপ্রিয় হতে গেলে, অবশ্যই প্রবীণদের সামনে রেখেই অগ্রসর হতে হবে। আবার প্রবীণ নেতৃত্বেরও দায় রয়েছে, নতুনদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। দেরিতে হলেও বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই, শুধু পূর্বসূরির পরিচয়ে যেন উত্তরসূরি নেতৃত্ব সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় না হন। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে

তৃণমূল থেকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব প্রবীণদেরই নিতে হবে। বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নবতর উপলব্ধিতে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেবেন আমাদের এই প্রত্যাশা। মনে রাখতে হবে, শুধু মুখ বদল করে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে এলেই হবে না তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং দেশপ্রেম থাকতে হবে।