অভিনেতা হিসেবে ঢাকায় যাব

এ মুহূর্তে কলকাতার আলোচিত অভিনেতাদের একজন জিতু কামাল। সম্প্রতি তার অভিনীত ‘মানুষ’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। সিনেমা জগৎ, ব্যক্তিজীবন ও নানা বিষয়ে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

নিশ্চয়ই এই মুহূর্তে ব্যস্ত?

হ্যাঁ, যখন ফোন দিয়েছিলেন সিনেমা হলে ছিলাম। জানেনই তো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এখন হলে হলে ঘুরতে হচ্ছে।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?

মাত্র হল থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠলাম। ভীষণ ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। দর্শকরা আমাকে পেয়ে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে এটা ভীষণ আনন্দের।

‘মানুষ’ সিনেমায় আপনি কি খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন?

না, এটাকে খল চরিত্র বলা যাবে না। আমার চরিত্রের নাম মান্নান। একজন নামাজি মান্নান আরেকজন ছোট মান্নান। দুভাবে সিনেমায় উঠে এসেছি, মজাটা এখানেই।

জিতের সঙ্গে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করলেন, তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

প্রথমবার সিনেমায় কাজ করলেও জিৎদার সঙ্গে আমার ছোটপর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার সঙ্গে আমার আগে থেকেই খুবই ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং।

এবার বলুন বাংলাদেশি পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা

সঞ্জয় সমাদ্দার দাদার সঙ্গে কাজ করে উপভোগ করেছি। তার সম্পর্কে আমার তিনটা বিশেষণ রয়েছে, ১. প্যাশনেট, ২. ভদ্রলোক ও ৩. ডিরেক্টর। ডিরেক্টরকে বিশেষণ বললাম এই কারণে যে তিনি একজন সত্যিকার এবং অসামান্য ডিরেক্টর।

বাংলাদেশের সিনেমা, নাটক দেখা হয়তো নাকি?

হ্যাঁ, আমি মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরীর সিনেমা, নাটক প্রচুর দেখেছি। চঞ্চলদা তো দারুণ মানুষ। তার সঙ্গে একটা ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ হয়েছে। পদাতিকে একটা ক্যামিও চরিত্র ছিল, সেটা করতে গিয়ে পরিচয়। খুব কাছ থেকে তাকে জানার সুযোগ হয়েছে। সারারাত তার সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি।

অভিনয়ের বাইরে অবসর পেলে কী করেন?

আমি পুরো স্পোর্টসম্যান। আমি সেকেন্ড ডিভিশন ক্রিকেট খেলেছি। সাঁতারে আমার রাজ্যকে নেতৃত্ব দিয়েছি। খেলাধুলা ছাড়াও আমি অবসরে প্রচুর বই পড়ি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার পছন্দের লেখক, আর যখন আমি ভ্রমণে যাই তখন বিভূতিভূষণের বই সঙ্গে থাকে। জলে জঙ্গলে বিভূতিভূষণ পারফেক্ট।

অভিনয় জীবনের কথা আরেকটু বলুন, আসন্ন কোনো সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে কি না...

আমি সব সময় লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের মধ্যেই থেকেছি। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছি। এরপর অভিনয়ে চলে আসা। এই হলো আমার গল্প। নতুন একটি সিনেমায় কাজ করলাম, এটার নাম অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ। এটি পরিচালনা করেছেন দুলাল দে। বলতে পারেন এটি সুনীলের অরণ্যের দিনরাত্রির বর্তমান সংস্করণ। এ ছাড়া দুটো সিনেমায় কাজ করেছি, সেসব মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশে এসেছিলেন কখনো?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে ২০১৭ সালে গিয়েছিলাম। সেখানে একটা ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম। সে সময় একটা মেলায় গিয়ে আমার পকেটমারি হয়ে যায়। খুব ঝামেলায় পড়েছিলাম, চ্যানেল আইয়ের এক দাদা আমাকে উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল। একটাই ইচ্ছে অভিনেতা হিসেবে ঢাকায় যাব। সে অপেক্ষায় আছি।

এবার একটি ব্যক্তিজীবনের কথা বলুন, আপনার স্ত্রী নবনীতার সঙ্গে...

দেখুন ব্যক্তিগত কথা আমি একদমই বলতে চাই না। সে আমার স্ত্রী ছিল, একসঙ্গে থেকেছি, তাকে ভালোবেসেছি একটা সময় এখন তার বিষয়ে বিন্দুমাত্র কটু কথা বলতে চাই না, এটা আমার খারাপ লাগবে।