তবে কী রাজনীতি থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজল ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফরিদপুর সদর আসনের একাধিক বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিদায়ের ঘণ্টা বেজেছে। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মোশাররফ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন নেতার এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার মধ্যে দিয়ে হয়তো তার রাজনীতির অবসান হতে যাচ্ছে। বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম হক ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্যসহ মোট ১১ জন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষেও একটি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল তার সমর্থকরা।

গত কয়েকদিন যাবৎ ফরিদপুর জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কে পাচ্ছেন সদর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন। সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে জেলা সদরের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আসনের আওয়ামী লীগ দল মনোনীত নৌকার প্রার্থী হয়েছেন শামীম হক।

রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ২৯৮টি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ফরিদপুর-৩ আসন (সদর) বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বর্তমানে সুইজারল্যান্ড অবস্থান করছেন। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে ঘোষণা দিলেও তাকে নিয়েও শেষ মুহূর্তে চলে নানা জল্পনা-কল্পনা। দীর্ঘদিন তিনি ফরিদপুরের সদরের রাজনীতি থেকে নিজেকে অনুপস্থিত রেখেছেন। শুধু তাই নয়, প্রায় দেড় বছর হলো তিনি দেশের বাইরে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগে ফরিদপুরের আলোচিত বরকত-রুবেল দুই ভাইসহ খন্দকার মোশাররফের অনুসারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ৭ জুন ২০২০ সালে অভিযান নামে। এর দুদিন পর ৯ জুন খন্দকার মোশাররফ ঢাকা চলে যান। এরপর তিনি দু-এক বার ফরিদপুরে এসেছিলেন। মোশাররফ হোসেন ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে বিদেশে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি সুইজারল্যান্ডে তার মেয়ের বাড়িতে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফরিদপুর-৩ আসনে খন্দকার মোশাররফ প্রথম নির্বাচন করেন ১৯৯৬ সালে। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জিততে পারেননি। ২০০৮ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

ফরিদপুর সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার বয়স হয়েছে, শারীরিকভাবেও আগের মতো ফিট নেই। আর তাই, আগের মতো রাজনীতি বা দলীয়ভাবে ভূমিকা রাখা কঠিন। বর্তমানে দলীয় প্রধানের নির্দেশক্রমে আমি চেষ্টা করেছি নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। 

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত প্রার্থী শামীম হক বলেন, তিনি (খন্দকার মোশাররফ) একাধিকবার এই আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। এই এলাকার উন্নয়নে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হতে পারলে, তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ, বিদেশে রয়েছেন, তার সুস্থতা কামনা করছি।

ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথমবার ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী হন। এরপর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের।