গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে চলছে বিরতি। বিরতির চুক্তি অনুযায়ী হামাসের কাছে জিম্মি থাকা ২৪০ জনের মধ্যে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মুক্তি পেয়েছেন ৫০ জন। এই জিম্মিদের উদ্ধার এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে গাজাকে ইতিমধ্যে ধ্বংসের নগরীতে পরিণত করেছে ইসরায়েল। প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে যাদের বড় অংশই শিশু। ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে হার মেনেছে মানবতা, জয় হয়েছে হিংস্রতার। কিন্তু হামাস নিজেদের হাতে বন্দি ইসরায়েলিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করেছে, অন্তত মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের অভিজ্ঞতা সেটাই বলছে।
গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি বন্দিদের কোনও ধরনের নির্যাতন বা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি। ইসরায়েলি মিডিয়াই এই তথ্য সামনে এনেছে। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ বলেছে, তারা হামাসের কাছ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি বন্দিদের বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের সাথে দেখা করেছে। তারা নিশ্চিত করেছে, বন্দি থাকার সময় হামাস সদস্যদের কাছ থেকে তারা কোনও ধরনের নির্যাতন বা খারাপ আচরণের সম্মুখীন হয়নি।
আনাদোলু বলছে, ইসরায়েল এখনও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে না। তবে গাজায় বন্দি থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজন আত্মীয় তাদের নাম উল্লেখ না করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। বন্দিদের ইসরায়েলি রেডিও চ্যানেল শোনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের পরীক্ষা করা একজন ইসরায়েলি ডাক্তার বলেছেন, বন্দি থাকার সময় তারা ভাত, ছোলা, মটরশুটি ও রুটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের কয়েকজনের ওজন কমেছে এছাড়া নেতিবাচক আর কিছু তিনি পাননি।
এর আগে হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ভেটন ফুমে নামে থাইল্যান্ডের এক নাগরিকও নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার না হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি কাজের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলে গিয়েছিলেন। গত ৭ অক্টোবর হামলা চালিয়ে ভেটন ফুমেসহ বেশ কয়েকজন থাই নাগরিককে ধরে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।
এছাড়া হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেডের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম পেইজে একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। হামাসের দাবি, এই চিঠি লিখেছেন সদ্য মুক্তি পাওয়া পাঁচ বছর বয়সী এমিলিয়া অ্যালোনি নামের ইসরায়েলি শিশুর মা ড্যানিয়েল অ্যালোনি।
তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘শিশুদের জিম্মি করাটা উচিৎ হয়নি। তবু গাজায় আমার মেয়েকে আপনারা আদর-যত্নে রেখেছিলেন। গাজায় আপনারা যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং যে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা সত্ত্বেও আপনাদের এমন সদয় আচরণ আমার মনে থাকবে।’
প্রসঙ্গত, গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলে তাদের হামলার জবাবে গাজায় বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরায়েলের গাজা আক্রমণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় উঠলেও তা আমলে নেয়নি দেশটি। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন।